Dawatul Islam | সূরা ফালাকের উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুযুল

বৃহস্পতিবার, ০২, এপ্রিল, ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সূরা ফালাকের উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুযুল
১৮ আগস্ট ২০২২ ০৪:৫৭ মিনিট

الفَلَق এর শব্দের অর্থ

ফালাক শব্দের হলো প্রভাতকাল। অত্র সুরাতে প্রভাতের প্রতিপালক’ এই জন্য বলা হয়েছে যে, তিনি যেমন রাতের অন্ধকারকে অপসারণ করে দিনের আলোয় আলোকিত করতে পারেন, ঠিক তেমনিভাবে তিনি ভয় ও আতঙ্ক দূর করে আশ্রয় প্রার্থীকে নিরাপত্তা দান করতে পারেন। অথবা মানুষ যেমন রাত্রে এই অপেক্ষা করে যে, সকালের উজ্জ্বলতা এসে উপস্থিত হবে, ঠিক তেমনিভাবে ভীত মানুষ আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে সফলতার প্রভাত উদয়ের আশায় থাকে।

সুরা ফালাক ও নাসের শানে নুযুল

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহূদীদের একটা ছেলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করতো। ইয়াহুদীরা ছেলেটিকে ফুসলিয়ে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি চুল এবং তাঁর চুল আঁচড়াবার চিরুনীর কয়েকটি দাঁত হস্তগত করে। তারপর তারা ওগুলোতে যাদু করে। অতপর যাদুর গ্রন্থি বা সুরাইক যারওয়ান নামক কূপে স্থাপন করে।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার স্ত্রীদের কাছে গমন না করেও তাঁর মনে হতো যে তিনি তাদের কাছে গমন করেছেন। এই আত্মভুলা অবস্থা দূরীকরণের জন্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সচেষ্ট ছিলেন, কিন্তু এরকম অবস্থা হওয়ার কারণ তাঁর জানা ছিল না।

ছয় মাস পর্যন্ত ঐ একই অবস্থা চলতে থাকে। তারপর দুজন ফেরেশতা এসে কথােপকথনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হযরত আলী (রাঃ), হযরত যুবায়ের (রাঃ) এবং হযরত আম্মার (রাঃ) কে পাঠিয়ে কূপ থেকে যাদুর গ্রন্থিগুলো বের করিয়ে আনেন। ঐ যাদুকৃত জিনিষগুলোর মধ্যে একটি ধনুকের রঞ্জু ছিল, তাতে ছিল বারোটি গেরো। প্রত্যেক গেরোতে একটি করে সূচ বিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

তারপর আল্লাহ তা'আলা সূরা ফালাক ও নাস অবতীর্ণ করেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরা দু’টির এক একটি আয়াত পাঠ করছিলেন আর ঐ গ্রন্থিসমূহ একটি একটি করে আপনা আপনি খুলে যাচ্ছিল। সূরা দু'টি পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে সমস্ত গেরোই খুলে যায় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

উচ্চারণঃ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ 

১) কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক।

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ২) মিন শাররি মা-খালাক।

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

৩) ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।

وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ

৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

৫) ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

অনুবাদঃ

১) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার।

২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে। 

৩) অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়। 

৪) গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে।

৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সব সংবাদ