যুদ্ধকালীন সময়ে মানসিক উদ্বেগের কুরআনিক চিকিৎসা

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
‘আবু লাহাব’ যার অর্থ ‘আগুনের শিখা। আবু লাহাবের আসল নাম ছিলো আব্দুল উয়যা। আবু লাহাব তার ডাক নাম। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতৃব্য। আবু লাহাবের তার প্রচন্ড আগুনের মত মেজাজ ও উজ্জ্বল গাত্রবর্ণের জন্য নামটি লাভ করেন।
ইসলামের প্রথম যুগের এক চরম শত্রু। যখন মহানবী কোরাইশ গোত্রের সকলকে এবং তাঁর নিজের আত্মীয়-স্বজনদের এক আল্লাহ্র প্রতি এবাদতের প্রতি আহ্বান করলেন, মানুষের কৃতকর্মের পরিণাম ও পাপ সম্বন্ধে সতর্ক করলেন, আবু লাহাব রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে রাসুলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত দিলেন। আবু লাহাবের অন্ধ আক্রোশ থেকে উচ্চারিত অভিশম্পাত বাণী কোনও দিনও সত্যে পরিণত হয় নাই। ইসলামের উদীয়মান সূর্য্য দিনে দিনে আরও প্রখর হতে থাকলো এবং যারা ইসলামের প্রচারে প্রচন্ড শত্রুতা করেছিলো,তাদের শক্তি ও ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।
এদের মধ্যে অনেকেই বদর যুদ্ধে নিহত হয়। আবু লাহাব বদরের যুদ্ধের কিছুদিন পরে মহামারীতে ভীষণ দুরবস্থার মাঝে মারা যায়। এই আয়াতে ‘হাতের’ উল্লেখ আছে। মানুষের সব কাজে হাতের প্রভাবই বেশী, তাই এখানে ব্যক্তি সত্ত্বাকে হাত বলেই ব্যক্ত করে দেয়া হয়। আবু লাহাবের মৃত্যু ছিলো অত্যন্ত করুণ। তিনি মহামারীতে আক্রান্ত হন ফলে সংক্রামণের ভয়ে তার আত্মীয়-স্বজনেরা তাকে নির্জন প্রান্তরে রেখে আসে। সেখানে তিনি অসহায় ও করুণ মৃত্যু বরণ করেন। তার ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোনও কাজেই আসে নাই।
আবু লাহাবের ন্যায় তার স্ত্রীও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ছিলো। সে এ ব্যাপারে স্বামীকে সাহায্য করতো। সে খেজুরের পাতা দ্বারা রজ্জু পাকিয়ে তা দিয়ে খেজুর কাঁটার বান্ডিল তৈরী করে রাতের আঁধারে তা বয়ে এনে রাসুলের যাত্রা পথে বিছিয়ে রাখতো যেনো তা রাসুলকে আহত করে। জ্বালানী কাঠ বহন করা বাক্যটি প্রতীকধর্মী।
আবু লাহাবের স্ত্রীর চরিত্রের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে। সে ছিলো দুষ্টু প্রকৃতির ; মানুষের মাঝে বিবাদ বিসংবাদের সৃষ্টি করা ছিলো তার স্বাভাবিক ধর্ম। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের কষ্ট দেয়ার জন্য আবু লাহাব পত্নী নিন্দাকার্যের সাথেও জড়িত ছিলো যাতে বিবাদ, বিসংবাদের সৃষ্টি হয়। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকেই ‘ইন্ধন’ বা জ্বালানী কাঠ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটা ছিলো তার অন্যতম পাপ।
এর দ্বারা অন্য আর এক রকমের আগুন ও অন্য আর এক রকমের দড়ি দ্বারা সে বেষ্টিত হয়েছে। আগুনটি হবে তার পরলোকের শাস্তি এবং দড়ি বা পাকানো রজ্জুটি হচ্ছে পাপের দাসত্ব করার প্রবণতা। কারণ প্রতিটি পাপ কাজই আত্মাকে হীনতা ও নীচতার ডোরে বেধে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত সে তার আত্মার স্বাধীনতা হারায় ও পাপের ক্রীতদাসে পরিণত হয়। এ ভাবেই পাপীরা তাদের শেষ পরিণতিকে নির্ধারিত করে নেয়।
সূরা লাহাবের উচ্চারণ ও অর্থঃ
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়াতাব্বা
ধ্বংস হোক আবু লহবের উভয় হাত, আর সে-ও ধ্বংস হোক!
مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ
মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব
তার ধন-সম্পদ ও যা সে অর্জন করেছে তা তার কোনো কাজে আসবে না।
سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
সাইয়াছলা না রান যা তালাহাবিওঁ
তাকে অচিরেই ঠেলে দেওয়া হবে লেলিহান আগুনে
وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ
ওয়ামরাআতুহু, হাম্মা লাতাল হাত্বোয়াব
এবং তার স্ত্রীকেও; যে ইন্ধন বহনকারিণী।
فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ ফী-জী-দিহা হাবলুম মিম মাসাদ ।
তার গলায় থাকবে কড়াপাকের খেজুরের আঁশের রশি।