Dawatul Islam | সুরা যিলযাল- বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

বৃহস্পতিবার, ০২, এপ্রিল, ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সুরা যিলযাল- বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা
১৭ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৩০ মিনিট

সুরা যিলযালের বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদঃ

(১) إِذَا زُلْزِلَتِ ٱلْأَرْضُ زِلْزَالَهَا

(১) ইযা-ঝুলঝিলাতিল আরদুঝিলঝা-লাহা-।

যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,

وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا

(২) ওয়া আখরাজাতিল আরদুআছকা-লাহা-।

যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।

وَقَالَ ٱلْإِنسَٰنُ مَا لَهَا

(৩) ওয়া কা-লাল ইনছা-নুমা-লাহা-।

এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?

يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا

(৪) ইয়াওমাইযিন তুহাদ্দিছু আখবা-রাহা-।

সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,

بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا

(৫) বিআন্না রাব্বাকা আওহা-লাহা-।

কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ ٱلنَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا۟ أَعْمَٰلَهُمْ

(৬) ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াসদুরুন্না-ছুআশতা-তাল লিউউরাও আ‘মা-লাহুম।

সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُۥ

(৭) ফামাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন খাইরাইঁ ইয়ারাহ।

অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে

وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُۥ

(৮) ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন শাররাইঁ ইয়ারাহ।

এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।

সুরা যিলযালের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাঃ

সাধারণ মানুষের নিকট প্রচন্ড ভূমিকম্প এক অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা। এর ফলে সুউচ্চ প্রাসাদ মূহুর্তের মধ্যে ধূলিস্যাৎ হয়ে পড়ে। পৃথিবীর বর্হিভাগ চৌচির হয়ে ফেটে পড়ে ও অভ্যন্তর ভাগের বিভিন্ন পদার্থ বের হয়ে আসে। ভুমিকম্পের আকস্মিকতা, উৎপত্তি, মানুষের অজানা এবং এর ধ্বংস করার ক্ষমতার ভয়াবহতা মানুষকে ভয়ে বিহ্বল করে দেয়। এ হলো পৃথিবীর সামান্য ভূমিকম্পের বিবরণ। কিন্তু কেয়ামতে যে ভুকম্পন হবে তার তীব্রতা ও ধ্বংসযজ্ঞ কল্পনা করাও মানুষের পক্ষে অসাধ্য। তবে পৃথিবীর সামান্য ভূমিকম্পন থেকে মানুষ কেয়ামতের দিনের ভূকম্পনের সামান্য কিছু ধারণা করতে পারে।

যদি ভূকম্পনের সাথে আগ্নেগিরির আগ্নেয়পাত ঘটে, তবে বড় বড় শিলাখন্ড ও গলিত উত্তপ্ত লাভার স্রোত ভূগর্ভ থেকে উৎক্ষিপ্ত হতে থাকে। এগুলির উৎক্ষেপন থেকে মনে হয় যে, এগুলি বের করে দেয়ার জন্য পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ ব্যগ্র, এরা হচ্ছে পৃথিবীর জন্য বোঝা স্বরূপ। যাবতীয় খনিজ পদার্থ, অথবা ধনরত্ন যা মানুষ গোপনে পুঁতে রেখেছিলো সব কিছু মাটির অতল থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু কেয়ামতে যে প্রচন্ড ভূকম্পন ঘটবে তাতে পৃথিবীতে অদ্যাবধি যত মৃতদেহকে কবর দেয়া হয়েছে, সব বের হয়ে আসবে এবং তাদেরকে কবরের অন্ধকার থেকে দিনের আলোতে প্রকাশ করা হবে। প্রকৃত সত্যের ভিত্তিতে তাদের বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

সেদিনের ভয়াবহতা দর্শনে মানুষ হয়ে পড়বে হতভম্ব। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় তার কণ্ঠরোধ হওয়ার অবস্থা হবে।

এই আয়াতে বলা হয়েছে পৃথিবীকে সেদিন ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করা হবে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে সত্যি তবে পৃথিবীতে সৃষ্টির আদি থেকে যত কাজ করা হয়েছে সব কিছু পৃথিবী প্রকাশ করে দেবে দিবালোকের ন্যায়। কারণ আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে সেই আদেশ দান করবেন যার ফলে পৃথিবীর মাঝে নিজেকে প্রকাশ করার ‘প্রেরণা’ জন্মলাভ করবে। তাকে হুকুম করা হবে সকল প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করার জন্য। আল্লাহ্‌, ‘ প্রেরণা ‘ দান করলে ভাষাহীন জীবও আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা রাখে।

এই পৃথিবীতে ভালো ও মন্দ পরস্পর মিশে থাকে। কিন্তু বিচার দিবসের প্রাক্কালে ভালোকে মন্দ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হবে। ভালোরা হবে এক শ্রেণী এবং মন্দরা হবে অন্য শ্রেণী। প্রত্যেক দল তাদের বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে। প্রত্যেক দলকে তাদের কৃতকর্মকে দেখানো হবে, পৃথিবীতে তারা যা করেছে, যা চিন্তা করেছে, যা বলেছে অর্থাৎ জীবনের খুঁটিনাটি প্রতিটি ঘটনা সবই সিনেমার মত তাদের দৃষ্টিতে ভাস্বর হবে। তাদের কোন গোপন কাজ বা চিন্তা সেদিন গোপন থাকবে না। প্রতিটি কাজ চিন্তা, কথা, আচরণ তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য হোক সব কিছুর হিসাব নেয়া হবে। সেই সাথে এ কথাও বলা হয়েছে তাদের কাজের হিসাব তাদের দেখানো হবে।

‘যাররাত’ পরমাণু সম ওজন। অর্থাৎ পৃথিবীতে আমরা যাকে সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র ওজন মনে করি। বলা হয়েছে যে ভালো বা মন্দ যাই-ই মানুষ এই পৃথিবীতে করবে তা সেদিন সে দেখতে পারবে ও স্মরণ করতে পারবে। ভালো কাজের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে যে, অণু সমান সৎ কাজ করলেও আল্লাহ্‌র নিকট তা হারিয়ে যাবে না। এ ভাবেই আল্লাহ্‌ সৎকর্মশীলদের পুরষ্কৃত করবেন।

সব সংবাদ