যুদ্ধকালীন সময়ে মানসিক উদ্বেগের কুরআনিক চিকিৎসা

|
|
|
|
সূরা নং |
: ৮৭ |
|
সিজদা |
: ০ |
|
আয়াত |
: ১৯ |
|
রুকু |
: ১ |
|
পারা |
: ৩০ |
|
মক্কায় অবতীর্ণ |
|
|
নং |
আরবি |
উচ্চারণ |
অনুবাদ |
|
১ |
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى |
ছাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ‘লা |
আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন |
|
২ |
الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ |
আল্লাযী খালাকা ফাছওওয়া |
যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন |
|
৩ |
وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ |
ওয়াল্লাযী কাদ্দারা ফাহাদা |
এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন |
|
৪ |
وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَىٰ |
ওয়াল্লাযীআখরাজাল মার‘আ |
এবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেন |
|
৫ |
فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَىٰ |
ফাজা‘আলাহূগুছাআন আহওয়া |
অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা |
|
৬ |
سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ |
ছানুকরিউকা ফালা-তানছা |
আমি আপনাকে পাঠ করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না |
|
৭ |
إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ |
ইল্লা-মা-শাআল্লা-হু ইন্নাহূইয়া‘লামুল জাহরা ওয়ামা-ইয়াখফা |
আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয় |
|
৮ |
وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ |
ওয়া নুইয়াছছিরুকা লিল ইউছরা |
আমি আপনার জন্যে সহজ শরীয়ত সহজতর করে দেবো |
|
৯ |
فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ الذِّكْرَىٰ |
ফাযাক্কির ইন নাফা‘আতিযযিকরা |
উপদেশ ফলপ্রসূ হলে উপদেশ দান করুন |
|
১০ |
سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ |
ছাইয়াযযাক্কারু মাইঁ ইয়াখশা |
যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে |
|
১১ |
وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى |
ওয়া ইয়াতাজান্নাবুহাল আশকা |
আর যে, হতভাগা, সে তা উপেক্ষা করবে |
|
১২ |
الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَىٰ |
আল্লাযী ইয়াসলান্না-রাল কুবরা |
সে মহা-অগ্নিতে প্রবেশ করবে |
|
১৩ |
ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ |
ছু ম্মা লা-ইয়ামূতুফীহা-ওয়ালা-ইয়াহইয়া |
অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, জীবিতও থাকবে না |
|
১৪ |
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ |
কাদ আফলাহা মান তাঝাকা |
নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয় |
|
১৫ |
وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ |
ওয়া যাকারাছমা রাব্বিহী ফাসাল্লা |
এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে |
|
১৬ |
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا |
বাল তু’ছিরূনাল হায়া-তাদ্দুনইয়া |
বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও |
|
১৭ |
وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ |
ওয়াল আ-খিরাতুখাইরুওঁ ওয়া আবকা |
অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী |
|
১৮ |
إِنَّ هَـٰذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ |
ইন্না হা-যা-লাফিসসুহুফিল উলা |
এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবসমূহে |
|
১৯ |
صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ |
সুহুফি ইবরা-হীমা ওয়া মূছা |
ইব্রাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে |
সূরাটি মক্কায় নাযিল হয়েছে। বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে সর্বপ্রথম মুস‘আব ইবনে উমায়ের এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে উম্মে মাকতুমই মদীনায় হিজরত করেন। দু‘জনই আমাদেরকে কুরআন পড়ে শোনাতেন। তারপর আম্মার, বিলাল ও সা‘দ আসলেন। তারপর উমর ইবনুল খাত্তাব ২০ জনকে সাথে নিয়ে আসলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন, মদীনা বাসীগণ তার আগমনে যে রকম খুশী হয়েছিলেন তেমন আর কারও আগমনে খুশী হননি। এমনকি আমি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে একথা বলতে শুনেছি যে, এই হলো আল্লাহর রাসূল। তিনি আমাদের মাঝে তাশরীফ রেখেছেন। তিনি আসার আগেই আমি ‘সুরা আ’লা’ এবং এ ধরনের আরও কিছু সূরা পড়ে নিয়েছিলাম।” [বুখারী: ৪৯৪১, ৩৯২৪, ৩৯২৫, ৪৯৯৫]
অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, “তুমি কেন ‘সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ‘লা, ওয়াস শামছি ওয়া দুহাহা, ওয়াল্লাইলে ইযা ইয়াগসা” এ সূরাগুলো দিয়ে সালাত পড়ালে না?” [বুখারী: ৭০৫, মুসলিম: ৪৬৫] অন্য হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের সালাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশীয়াহ’ পড়তেন। আর যদি জুম‘আর দিনে ঈদ হতো তবে তিনি দুটাতেই এ সূরা দুটি দিয়ে সালাত পড়াতেন।” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৭৭]
হাদীসে আরও এসেছে যে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুম‘আ ও দুই ঈদের সালাতে “সাব্বিবহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশীয়াহ’ দিয়ে সালাত পড়াতেন। এমনকি কখনো যদি জুম‘আ ও ঈদের সালাতও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়ে যেত তখন তিনি উভয় সালাতে এ দু’ সূরাই পড়তেন। [মুসলিম: ৮৭৮, আবুদাউদ: ১১২২, তিরমিয়ী: ৫৩৩, নাসায়ী: ১৪২৪, ১৫৬৮, ১৫৯০, ইবনে মাজহ: ১২৮১]
অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিবহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন এবং কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, পড়তেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি এর সাথে ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’ও পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪০৬, ৫/১২৩, আবুদাউদ: ১৪২৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ১/৩০৫]
ইবনে আব্বাসরা দিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই এ আয়াত পড়তেন তখন বলতেন, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা’। [আবু দাউদ: ৮৮৩, মুসনাদে আহমাদ: ১/২৩২, মুস্তাদরাকে হাকিম:১/২৬৩]
পোস্ট ট্যাগ:
সূরা আলা বাংলা উচ্চারণ,সুরা আলা এর ফজিলত,সূরা আল আ'লা, আয়াত: ১৮,১৯,সূরা আলা ১৬-১৭,সূরা আ লা আয়াত ১৪,সূরা আলা আয়াত ১৫,সূরা বুরুজের তাফসীর,সূরা ফাজর এর তাফসির।