Dawatul Islam | সুরা আত তাকভীর- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

বৃহস্পতিবার, ০২, এপ্রিল, ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সুরা আত তাকভীর- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
০২ জানুয়ারী ২০২৪ ০৮:৩৭ মিনিট

সূরার নাম : তাকভীর

অর্থ : অন্ধকারাচ্ছন্ন

সূরা নং : ৮১

রুকু : ১

আয়াত: ২৯

সিজদা: ০

শব্দ: ১০৪

পারা : ৩০

অক্ষর:

মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِاللّهِالرَّحْمـَنِالرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

 

নং

আরবি

উচ্চারণ

অনুবাদ

إِذَاالشَّمْسُكُوِّرَتْ

ইযাশশামছুকুওবিরাত।

যেদিন নক্ষত্র সমূহ খসে পড়বে

وَإِذَاالنُّجُومُانْكَدَرَتْ

ওয়া ইযাননুজূমুন কাদারাত।

যেদিন পাহাড়সমূহ উড়তে থাকবে 

وَإِذَاالْجِبَالُسُيِّرَتْ

ওয়া ইযাল জিবা-লুছুইয়িরাত।

যেদিন দশ মাসের গাভিন উষ্ট্রীগুলো উপেক্ষিত হবে  

وَإِذَاالْعِشَارُعُطِّلَتْ

ওয়া ইযাল ‘ইশা-রু ‘উত্তিলাত।

যেদিন বন্যপশুদের একত্রিত করা হবে

وَإِذَاالْوُحُوشُحُشِرَتْ

ওয়া ইযাল উহূশু হুশিরাত।

যেদিন সমুদ্রগুলিকে অগ্নিময় করা হবে

وَإِذَاالْبِحَارُسُجِّرَتْ

ওয়া ইযাল বিহা-রু ছুজ্জিরাত।

যেদিন আত্মাসমূহকে মিলিত করা হবে

وَإِذَاالنُّفُوسُزُوِّجَتْ

ওয়া ইযাননুফূছুঝুওবিজাত।

যেদিন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা জিজ্ঞাসিত হবে

وَإِذَاالْمَوْءُودَةُسُئِلَتْ

ওয়া ইযাল মাওঊদাতুছুইলাত।

কি অপরাধে সে নিহত হ’ল?

بِأَيِّذَنْبٍقُتِلَتْ

বিআইয়ি যামবিন কুতিলাত।

যেদিন আমলনামা সমূহ খুলে দেওয়া হবে।

১০

وَإِذَاالصُّحُفُنُشِرَتْ

ওয়া ইযাসসুহুফুনুশিরাত।

যেদিন আকাশকে আবরণমুক্ত করা হবে।

১১

وَإِذَاالسَّمَاءُكُشِطَتْ

ওয়া ইয়াছ ছামাউ কুশিতাত।

যেদিন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হবে।

১২

وَإِذَاالْجَحِيمُسُعِّرَتْ

ওয়া ইযাল জাহীমুছু‘‘য়িরাত।

যেদিন জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে।

১৩

وَإِذَاالْجَنَّةُأُزْلِفَتْ

ওয়া ইযাল জান্নাতুউঝলিফাত।

সেদিন প্রত্যেকে জানবে সে কি হাযির করেছে।

১৪

عَلِمَتْنَفْسٌمَاأَحْضَرَتْ

আলিমাত নাফছুম মাআহদারাত।

আমি শপথ করছি ঐসব নক্ষত্রের, যা (দিবসে) হারিয়ে যায় ও (রাতে) প্রকাশিত হয়।

১৫

فَلَاأُقْسِمُبِالْخُنَّسِ

ফালা উকছিমুবিলখুন্নাছ।

যা চলমান হয় ও অদৃশ্য হয়।

১৬

الْجَوَارِالْكُنَّسِ

আল জাওয়া-রিল কুন্নাছ।

শপথ রাত্রির যখন তা নিষ্ক্রান্ত হয়।

১৭

وَاللَّيْلِإِذَاعَسْعَسَ

ওয়াল্লাইলি ইযা-‘আছ‘আছ।

শপথ প্রভাতকালের যখন তা প্রকাশিত হয়।

১৮

وَالصُّبْحِإِذَاتَنَفَّسَ

ওয়াসসুবহিইযা-তানাফফাছ।

নিশ্চয় এই কুরআন সম্মানিত বাহকের (জিব্রীলের) আনীত বাণী।

১৯

إِنَّهُلَقَوْلُرَسُولٍكَرِيمٍ

ইন্নাহূলাকাওলুরাছূলিন কারীম।

যিনি শক্তিশালী এবং আরশের অধিপতির নিকটে মর্যাদাবান।

২০

ذِيقُوَّةٍعِنْدَذِيالْعَرْشِمَكِينٍ

যী কুওওয়াতিন ‘ইনদা যিল ‘আরশি মাকীন।

যিনি সকলের মান্যবর ও সেখানকার বিশ্বাসভাজন।

২১

مُطَاعٍثَمَّأَمِينٍ

মুতা-‘ইন ছাম্মা আমীন।

তোমাদের সাথী (মুহাম্মাদ) পাগল নন।

২২

وَمَاصَاحِبُكُمْبِمَجْنُونٍ

ওয়া মা-সা-হিবুকুম বিমাজনূন।

তিনি অবশ্যই তাকে (জিব্রীলকে) দেখেছেন প্রকাশ্য দিগন্তে।

২৩

وَلَقَدْرَآهُبِالْأُفُقِالْمُبِينِ

ওয়া লাকাদ রাআ-হু বিলউফুকিল মুবীন।

তিনি অদৃশ্য বিষয় (অহি) বর্ণনা করতে কৃপণ নন।

২৪

وَمَاهُوَعَلَىالْغَيْبِبِضَنِينٍ

ওয়ামা-হুওয়া ‘আলাল গাইবি বিদানীন।

এটা (কুরআন) বিতাড়িত শয়তানের উক্তি নয়।

২৫

وَمَاهُوَبِقَوْلِشَيْطَانٍرَجِيمٍ

ওয়ামা-হুওয়া বিকাওলি শাইতা-নির রাজীম।

অতএব তোমরা কোথায় যাচ্ছ?

২৬

فَأَيْنَتَذْهَبُونَ

ফাআইনা তাযহাবূন।

এটা তো বিশ্ববাসীদের জন্য উপদেশ মাত্র।

২৭

إِنْهُوَإِلَّاذِكْرٌلِلْعَالَمِينَ

ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুল লিল‘আ-লামীন।

সেই ব্যক্তির জন্য, যে তোমাদের মধ্যে সরল পথে চলতে চায়।

২৮

لِمَنْشَاءَمِنْكُمْأَنْيَسْتَقِيمَ

লিমান শাআ মিনকুম আইঁ ইয়াছতাকীম।

তার জন্য, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়।

২৯

وَمَاتَشَاءُونَإِلَّاأَنْيَشَاءَاللَّهُرَبُّالْعَالَمِينَ

ওয়ামা-তাশাঊনা ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন।

আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না কেবল অতটুকু ব্যতীত যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন।

যিনি বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা।

শানে নুযুল :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে কেউ কেয়ামতকে প্রত্যক্ষ দেখতে চায় সে যেন সূরা ‘ইযাস সামছু কুওয়িরাত, ইযাস সামায়ুন ফাতারতি ও ইযাস সামায়ুন সাক্কাত’ পড়ে। [তিরমিযী: ৩৩৩৩] এখানে প্রথম ছয়টি আয়াতের ভাষ্য কিয়ামতের প্রথম অংশ অর্থাৎ শিঙ্গায় প্রথমবার যে ফুৎকার দেয়া হবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট।

উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি নিদর্শন রয়েছে। মানুষ যখন হাটে- বাজারে থাকবে, তখন হঠাৎ সূর্যের আলো চলে যাবে এবং তারকারাজি দেখা যাবে; ফলে তারা আশ্চর্য হবে। তারা তাকিয়ে দেখার সময়েই হঠাৎ করে তারাগুলো খসে পড়বে। এরপর পাহাড়গুলো মাটির উপর পড়বে, নড়া-চড়া করবে এবং পুড়ে যাবে; ফলে বিক্ষিপ্ত ধুলোর মত হয়ে যাবে। তখন মানুষ জিনের কাছে এবং জিন মানুষের কাছে ছুটে আসবে। জন্তু-জানোয়ার-পাখি সব মিশে যাবে এবং একে অপরের সাথে একত্রিত হবে।

বিষয়বস্তু

অত্র সুরাটিতে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একটি পরকাল সম্পর্কিত বিষয় ও অপরটি রিসালাত সম্পর্কিত বিষয়। প্রথম ১৩ টি আয়াতে ‘কিয়ামত’- মহাপ্রলয় ও পুনরুত্থানের ১০ টি ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তন্মধ্যে প্রথম ছয়টি আয়াতে মহাপ্রলয়ের ভয়াবহ বিভীষিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এর পরবর্তী সাতটি আয়াতে কিয়ামতের দ্বিতীয় পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে।

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam  Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস

সব সংবাদ