যুদ্ধকালীন সময়ে মানসিক উদ্বেগের কুরআনিক চিকিৎসা

|
সূরার নাম : আবাসা |
অর্থ : ভ্রকুঞ্চিত করা |
|
সূরা নং : ৮০ |
রুকু : ১ |
|
আয়াত: ২৯ |
সিজদা: ০ |
|
শব্দ: ১৩৩ |
পারা : ৩০ |
|
অক্ষর: ৫৩৮ |
মক্কায় অবতীর্ণ |
بِسْمِاللّهِالرَّحْمـَنِالرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
|
নং |
আরবি |
উচ্চারণ |
অনুবাদ |
|
১ |
عَبَسَ وَتَوَلَّىٰ |
আবাসা অতাওয়াল্লা। |
তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। |
|
২ |
أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ |
আন্ জ্বা-য়াহুল্ আ‘মা-। |
কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। |
|
৩ |
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّىٰ |
অমা-ইয়ুদ্রীকা লা‘আল্লাহূ ইয়ায্যাক্কা য়। |
আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো, |
|
৪ |
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ الذِّكْرَىٰ |
আও ইয্যাক্কারু ফাতান্ফা‘আহুয্ যিক্র-। |
অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং উপদেশে তার উপকার হতো। |
|
৫ |
أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَىٰ |
আম্মা-মানিস্ তাগ্না-। |
পরন্তু যে বেপরোয়া, |
|
৬ |
فَأَنتَ لَهُ تَصَدَّىٰ |
ফাআন্তা লাহূ তাছোয়াদ্দা-। |
আপনি তার চিন্তায় মশগুল। |
|
৭ |
وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ |
অমা-‘আলাইকা আল্লা-ইয্যাক্কা-। |
সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোনো দোষ নেই। |
|
৮ |
وَأَمَّا مَن جَاءَكَ يَسْعَىٰ |
অআম্মা-মান্ জ্বা-য়াকা ইয়াস্‘আ-। |
যে আপনার কাছে দৌঁড়ে এলো |
|
৯ |
وَهُوَ يَخْشَىٰ |
অহুওয়া ইয়াখ্শা-। |
এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে, |
|
১০ |
فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ |
ফাআন্তা ‘আন্হু তালাহ্হা-। |
আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন। |
|
১১ |
كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ |
কাল্লা য় ইন্নাহা-তায্কিরহ্। |
কখনো এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবাণী। |
|
১২ |
فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ |
ফামান্ শা-য়া যাকারহ্। |
অতএব, যে ইচ্ছা করবে, সে একে গ্রহণ করবে। |
|
১৩ |
فِي صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ |
ফী ছুহুফিম্ মুর্কারমাতিম্ |
এটা লিখিত আছে সম্মানিত, |
|
১৪ |
مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ |
র্মাফূ ‘আতিম্ মুত্বোয়াহ্হারতিম্ |
উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে, |
|
১৫ |
بِأَيْدِي سَفَرَةٍ |
বিআইদী সাফারতিন্ |
লিপিকারের হস্তে |
|
১৬ |
كِرَامٍ بَرَرَةٍ |
কির-মিম্ বাররহ্। |
যারা মহৎ, পূত চরিত্র। |
|
১৭ |
قُتِلَ الْإِنسَانُ مَا أَكْفَرَهُ |
কুতিলাল্ ইন্সা-নু মা য় আক্ফারহ্। |
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কত অকৃতজ্ঞ! |
|
১৮ |
مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ |
মিন্ আইয়্যি শাইয়িন্ খলাক্বহ্। |
তিনি তাকে কি বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? |
|
১৯ |
مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ |
মিন্ নুতফাহ্; খলাক্বহূ ফাক্বদ্দারহূ |
শুক্র থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন। |
|
২০ |
ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ |
ছুম্মাস্ সাবীলা ইয়াস্সারহূ |
অতঃপর তার পথ সহজ করেছেন, |
|
২১ |
ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ |
ছুম্মা আমা-তাহূ ফাআকবারহূ |
অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে। |
|
২২ |
ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنشَرَهُ |
ছুম্মা ইযা-শা-য়া আন্শারহ্। |
এরপর যখন ইচ্ছা করবেন তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। |
|
২৩ |
كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَا أَمَرَهُ |
কাল্লা-লাম্মা-ইয়াকদ্বি মা য় আমারহ্। |
সে কখনো কৃতজ্ঞ হয়নি, তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে তা পূর্ণ করেনি। |
|
২৪ |
فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ إِلَىٰ طَعَامِهِ |
ফাল্ইয়ান্জুরিল্ ইন্সা-নু ইলা-ত্বোয়া‘আ-মিহী য়। |
মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক, |
|
২৫ |
أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا |
আন্না- ছোয়াবাব্নাল্ মা-য়া ছোয়াব্বান্ |
আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি, |
|
২৬ |
ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا |
ছুম্মা শাক্বকনাল্ র্আদ্বোয়া শাকক্বান্ |
এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি, |
|
২৭ |
فَأَنبَتْنَا فِيهَا حَبًّا |
ফাআম্বাত্না-ফীহা-হাব্বাবাঁও । |
অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, |
|
২৮ |
وَعِنَبًا وَقَضْبًا |
অ ‘ইনাবাঁও অক্বদ্ব্বাঁও |
আঙ্গুর, শাক-সবজি, |
|
২৯ |
وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا |
অ যাইতূ নাঁও অনাখ্লাঁও। |
যয়তুন, খেজুর, |
|
৩০ |
وَحَدَائِقَ غُلْبًا |
অহাদা-য়িক্বা গুল্বাঁও । |
ঘন উদ্যান, |
|
৩১ |
وَفَاكِهَةً وَأَبًّا |
অফা-কিহাতাঁও অআব্বাম্ । |
ফল এবং ঘাস |
|
৩২ |
مَّتَاعًا لَّكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ |
মাতা- ‘আল্লাকুম্ অলিআন্‘আ-মিকুম্ |
তোমাদেরও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে। |
|
৩৩ |
فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ |
ফাইযা-জ্বা-য়াতিছ্ ছোয়া-খ্খাহ্। |
অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে, |
|
৩৪ |
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ |
ইয়াওমা ইয়ার্ফিরুল্ র্মায়ু মিন্ আখীহি। |
সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে, |
|
৩৫ |
وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ |
অউম্মিহী অআবীহি। |
তার মাতা, তার পিতা, |
|
৩৬ |
وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ |
অছোয়া-হিবাতিহী অবানীহ্। |
তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। |
|
৩৭ |
لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ |
লিকুল্লিম্রিয়িম্ মিন্হুম্ ইয়াওমায়িযিন্ শা’নুঁই ইয়ুগ্নীহ্। |
সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। |
|
৩৮ |
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ |
উজুহুঁই ইয়াওমায়িযিম্ মুস্ফিরতুন্ |
অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, |
|
৩৯ |
ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ |
দ্বোয়া-হিকাতুম্ মুস্তাব্শিরহ্ |
সহাস্য ও প্রফুল্ল। |
|
৪০ |
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ |
অ উজুহুঁই ইয়াওমায়িযিন্ ‘আলাইহা- গাবারতুন্। |
এবং অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে ধূলি ধূসরিত। |
|
৪১ |
تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ |
তারহাকুহা-ক্বাতারহ্ |
তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে। |
|
৪২ |
أُولَـٰئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ |
উলা-য়িকা হুমুল্ কাফারতুল্ ফাজ্বারহ্। |
তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল । |
সুরাটির ব্যাখ্যা :
অত্র সূরাটি বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ্ ইবন উম্মে মাকতুম (রা:) এর সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। তাঁর মা উম্মে মাকতুম ছিলেন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার পিতা খুওয়াইলিদের সহোদর বোন। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্যালক। বংশ মর্যাদার দিক দিয়ে সমাজের সাধারণ শ্রেণীভুক্ত নন বরং অভিজাত বংশীয় ছিলেন। আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অন্ধ হওয়ার কারণে জানতে পারেননি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যের সাথে আলোচনারত আছেন। তিনি মজলিসে প্রবেশ করেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আওয়াজ দিতে শুরু করেন এবং বার বার আওয়াজ দেন। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন এর একটি আয়াতের পাঠ জিজ্ঞাসা করেন এবং সাথে সাথে জওয়াব দিতে পীড়াপীড়ি করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন মক্কার কাফের নেতৃবর্গের সাথে আলোচনায় মশগুল ছিলেন। এই নেতৃবর্গ ছিলেন ওতবা ইবন রবীয়া, আবু জাহল ইবন হিশাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতৃব্য আব্বাস। তিনি তখনও মুসলিম হননি। এরূপ ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ্ ইবন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর এভাবে কথা বলা এবং মামুলী প্রশ্ন নিয়ে তাৎক্ষনিক জওয়াবের জন্য পীড়াপীড়ি করা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিরক্তিকর ঠেকে। এই বিরক্তির প্রধান কারণ ছিল এই যে, আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পাক্কা মুসলিম ছিলেন এবং সদা সবৰ্দা মজলিসে উপস্থিত থাকতেন। তিনি এই প্রশ্ন অন্য সময়ও রাখতে পারতেন। তাঁর জওয়াব বিলম্বিত করার মধ্যে কোনো ধর্মীয় ক্ষতির আশংকা ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা নবীর এ বিরক্তি প্রকাশ পছন্দ করলেন না। তিনি আয়াত নাযিল করে তার প্রতিকার করেন।
[তিরমিয়ী ৩৩২৮, ৩৩৩১, মুয়াত্তা মালেক ১/২০৩]
পোস্ট ট্যাগ:
Dawatul Islam,Dawatul Islam Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস।