Dawatul Islam | সুরা আল ইনসান (দাহর)- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

বৃহস্পতিবার, ০২, এপ্রিল, ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সুরা আল ইনসান (দাহর)- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
২৮ মার্চ ২০২৪ ০৩:০৮ মিনিট

সূরার নাম : ইনসান

অর্থ : মানুষ

সূরা নং : ৩১

রুকু :

আয়াত: ৩১

সিজদা: ০

শব্দ:

পারা : ২৯

অক্ষর:

মাদানী

بِسْمِاللّهِالرَّحْمـَنِالرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

নং

আরবি

উচ্চারণ

অনুবাদ

 هَلْأَتَىعَلَىالْإِنْسَانِحِينٌمِنَالدَّهْرِلَمْيَكُنْشَيْئًامَذْكُورًا

হাল আতা- ‘আলাল ইনছা-নি হীনুম মিনাদ্দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাযকূরা-

মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?

 إِنَّاخَلَقْنَاالْإِنْسَانَمِنْنُطْفَةٍأَمْشَاجٍنَبْتَلِيهِفَجَعَلْنَاهُسَمِيعًابَصِيرًا

ইন্না-খালাকানাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু ছামী‘আম বাসীরা-  ইন্না-হাদাইনা- হুছছাবীলা ইম্মা- শা- কিরাওঁ ওয়া ইম্মা- কাফূরা-

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন।

 إِنَّاهَدَيْنَاهُالسَّبِيلَإِمَّاشَاكِرًاوَإِمَّاكَفُورًا

ইন্না-হাদাইনা-হুস্ সাবীলা ইম্মা-শা-কিরঁও অইম্মা- কাফুর-।

অবশ্যই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে শোকরকারী অথবা অকৃতজ্ঞ।

 إِنَّاأَعْتَدْنَالِلْكَافِرِينَسَلَاسِلَوَأَغْلَالًاوَسَعِيرًا

ইন্নাআ‘তাদনা- লিলকা-ফিরীনা ছালা-ছিলা ওয়া আগলা-লাওঁ ওয়া ছা‘ঈরা-

আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি।

 إِنَّالْأَبْرَارَيَشْرَبُونَمِنْكَأْسٍكَانَمِزَاجُهَاكَافُورًا

ইন্নাল আবরা-রা ইয়াশরাবূনা মিন কা’ছিন কা-না মিঝা-জুহা- কা-ফূরা-

নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানপাত্র থেকে যার মিশ্রণ হবে কাফূর

 عَيْنًايَشْرَبُبِهَاعِبَادُاللَّهِيُفَجِّرُونَهَاتَفْجِيرًا

আইনাইঁ ইয়াশরাবুবিহা- ‘ইবা-দুল্লা-হি ইউফাজ্জিরূনাহা- তাফজীরা-

এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।

 يُوفُونَبِالنَّذْرِوَيَخَافُونَيَوْمًاكَانَشَرُّهُمُسْتَطِيرًا

ইঊফূনা বিন্নাযরি ওয়া ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান কা-না শাররুহূমুছতাতীরা-

তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত।

 وَيُطْعِمُونَالطَّعَامَعَلَىحُبِّهِمِسْكِينًاوَيَتِيمًاوَأَسِيرًا

ওয়া ইউত‘ইমূনাত্তা‘আ-মা ‘আলা- হুব্বিহী মিছকীনাওঁ ওয়া ইয়াতীমাওঁ ওয়া আছীরা-

তারা বলে, ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি।

 إِنَّمَانُطْعِمُكُمْلِوَجْهِاللَّهِلَانُرِيدُمِنْكُمْجَزَاءًوَلَاشُكُورًا

ইন্নামা- নুত‘ইমুকুম লিওয়াজহিল্লা-হি লা-নুরীদুমিনকুম জাঝাআওঁ ওয়ালা- শুকূরা-

আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন শোকরও না।

১০

 إِنَّانَخَافُمِنْرَبِّنَايَوْمًاعَبُوسًاقَمْطَرِيرًا

ইন্না- নাখা-ফুমির রাব্বিনা- ইয়াওমান ‘আবূছান কামতারীরা-

 আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি।

১১

 فَوَقَاهُمُاللَّهُشَرَّذَلِكَالْيَوْمِوَلَقَّاهُمْنَضْرَةًوَسُرُورًا

ফাওয়াকা- হুমুল্লা-হু শাররা যা-লিকাল ইয়াওমি ওয়া লাক্কা-হুম নাদরাতাওঁ ওয়া ছুরূরা-

সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।

১২

 وَجَزَاهُمْبِمَاصَبَرُواجَنَّةًوَحَرِيرًا

ওয়া জাঝা-হুম বিমা-সাবারূ জান্নাতাওঁ ওয়া হারীরা-

আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন।

১৩

 مُتَّكِئِينَفِيهَاعَلَىالْأَرَائِكِلَايَرَوْنَفِيهَاشَمْسًاوَلَازَمْهَرِيرًا

মুত্তাকিঈনা ফীহা- ‘আলাল আরাইকি লা- ইয়ারাওনা ফীহা- শামছাওঁ ওয়ালাঝামহারীরা-

তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যাধিক শীত।

১৪

 وَدَانِيَةًعَلَيْهِمْظِلَالُهَاوَذُلِّلَتْقُطُوفُهَاتَذْلِيلًا

ওয়া দা- নিয়াতান ‘আলাইহিম জিলা- লুহা- ওয়া যুলিল্লাত কুতূফুহা- তাযলীলা-

তাদের উপর সন্নিবহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।

১৫

 وَيُطَافُعَلَيْهِمْبِآنِيَةٍمِنْفِضَّةٍوَأَكْوَابٍكَانَتْقَوَارِيرَ

ওয়া ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিআ-নিয়াতিম মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া আকওয়া-বিন কা-নাত কাওয়া-রীরা-

এবংতাদের সম্মুখে রূপার পাত্রসমূহ ও পান-পাত্রাদি (পরিবেশনের জন্য) ঘুরানো ফেরানোহবে, যেগুলো স্ফটিকের ন্যায় পরিস্কার হবে।

১৬

 قَوَارِيرَمِنْفِضَّةٍقَدَّرُوهَاتَقْدِيرًا

কাওয়া-রীরা মিন ফিদ্দাতিন কাদ্দারূহা-তাকদীরা-

কেমন স্ফটিক? রূপারই। সাক্বীগণ সেগুলোকে পূর্ণ পরিমাণে ভর্তি করে রেখেছে-এমন হবে।

১৭

 وَيُسْقَوْنَفِيهَاكَأْسًاكَانَمِزَاجُهَازَنْجَبِيلًا

ওয়া ইউছকাওনা ফীহা- কা’ছান কা-না মিঝা-জুহা- ঝানজাবীলা-

এবং তাতে ওই পাত্রথেকে পান করানো হবে, যার মিশ্রণ হবে আদা।

১৮

 عَيْنًافِيهَاتُسَمَّىسَلْسَبِيلًا

‘আইনান ফীহা- তুছাম্মা- ছালছাবীলা-

ওই আদা কি? জান্নাতের একটা ঝর্ণা, যাকে ‘সালসাবীল’ বলা হয়।

১৯

 وَيَطُوفُعَلَيْهِمْوِلْدَانٌمُخَلَّدُونَإِذَارَأَيْتَهُمْحَسِبْتَهُمْلُؤْلُؤًامَنْثُورًا

ওয়া ইয়াতূফু‘আলাইহিম বিলদা-নুম মুখাল্লাদূ না ইযা-রাআইতাহুম হাছিবতাহুম ল’লুআম মানছূরা-

এবং তাদের চতুর্পাশেসেবার নিমিত্ত প্রদক্ষিণ করবে চির কিশোররা; যখন তুমি তাদেরকে দেখবে তখন তাদেরকেমনে করবে বিক্ষিপ্ত মুক্তারাজি।

২০

 وَإِذَارَأَيْتَثَمَّرَأَيْتَنَعِيمًاوَمُلْكًاكَبِيرًا

ওয়া ইযা- রাআইতা ছাম্মা রআইতা না‘ঈমাওঁ ওয়া মুলকান কাবীরা-

এবং যখন তুমিএদিক-সেদিক তাকাবে তখন এক মহা শান্তি দেখবে এবং মহা বাদশাহী।

২১

 عَالِيَهُمْثِيَابُسُنْدُسٍخُضْرٌوَإِسْتَبْرَقٌوَحُلُّواأَسَاوِرَمِنْفِضَّةٍوَسَقَاهُمْرَبُّهُمْشَرَابًاطَهُورًا

‘আ-লিয়াহুম ছিয়া-বুছুনদুছিন খুদরুওঁ ওয়া ইছতাবরাকু ওঁ ওয়া হুললূআছা-বিরা মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া ছাকা-হুম রাব্বুহুম শারা-বান তাহূরা-

তাদের গায়ে রয়েছেপাতলা রেশমের সবুজ বস্ত্র এবং মোটা রেশমের। আর তাদেরকে রূপার কঙ্কণ পরানো হবে; এবং তাদেরকে তাদের রব পবিত্র পানীয় পান করাবেন।

২২

 إِنَّهَذَاكَانَلَكُمْجَزَاءًوَكَانَسَعْيُكُمْمَشْكُورًا

ইন্না হা-যা- কা-না লাকুম জাঝাআওঁ ওয়া কা-না ছা‘ইউকুম মাশকূরা-

তাদেরকে বলা হবে, ‘এটা হচ্ছে তোমাদের পুরস্কার এবং তোমাদের পরিশ্রম যথাস্থানে পৌঁছেছে।

২৩

 إِنَّانَحْنُنَزَّلْنَاعَلَيْكَالْقُرْآنَتَنْزِيلًا

ইন্না-নাহনুনাঝঝালনা- ‘আলাইকাল কুরআ-না তানঝীলা-

নিশ্চয় আমি আপনারপ্রতি ক্বোরআন ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ করেছি।

২৪

 فَاصْبِرْلِحُكْمِرَبِّكَوَلَاتُطِعْمِنْهُمْآثِمًاأَوْكَفُورًا

ফাসবির লিহুকমি রাব্বিকা ওয়ালা- তুতি‘ মিনহুম আ-ছিমান আও কাফূরা-

সুতরাং আপন রবেরনির্দেশের উপর ধৈর্যশীল থাকুন; এবং তাদের মধ্যে কোন পাপী অথবা অকৃতজ্ঞের কথাশ্রবণ করবেন না।

২৫

 وَاذْكُرِاسْمَرَبِّكَبُكْرَةًوَأَصِيلًا

ওয়াযকুরিছ মা রাব্বিকা বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা-

এবং আপন রবের নামসকাল ও সন্ধ্যায় স্মরণ করুন!

২৬

 وَمِنَاللَّيْلِفَاسْجُدْلَهُوَسَبِّحْهُلَيْلًاطَوِيلًا

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছজুদ লাহূওয়া ছাব্বিহহু লাইলান তাবিলা- ।

এবং রাতের কিছু অংশেতাকে সাজদা করুন; আর দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তার পবিত্রতা ঘোষনা করুন।

২৭

 إِنَّهَؤُلَاءِيُحِبُّونَالْعَاجِلَةَوَيَذَرُونَوَرَاءَهُمْيَوْمًاثَقِيلًا

ইন্না হাউলাই ইউহিববূনাল ‘আ-জিলাতা ওয়া ইয়াযারূনা ওয়ারাআহুম ইয়াওমান ছাকীলা-

নিশ্চয় এসব লোকপদতলের পৃথিবীকে ভালোবাসে এবং নিজেদের পেছনের এক ভারী (কঠিন) দিনকে বর্জন করেবসেছে।

২৮

 نَحْنُخَلَقْنَاهُمْوَشَدَدْنَاأَسْرَهُمْوَإِذَاشِئْنَابَدَّلْنَاأَمْثَالَهُمْتَبْدِيلًا

নাহনুখালাকনা-হুম ওয়াশাদাদনাআছরাহুম ওয়া ইযা- শি’না- বাদ্দালনাআমছালাহুম তাবদীলা-

আমি তাদেরকে সৃষ্টিকরেছি এবং তাদের সন্ধিস্থলকে মজবুত করেছি। এবং আমি যখনই চাই তাদের মতোঅন্যান্যদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারি।

২৯

 إِنَّهَذِهِتَذْكِرَةٌفَمَنْشَاءَاتَّخَذَإِلَىرَبِّهِسَبِيلًا

ইন্না হা-যিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রাব্বিহী ছাবীলা-

নিশ্চয় এটা হচ্ছেউপদেশ। সুতরাং যার ইচ্ছা হয় যে যেন আপন রবের দিকে রাস্তা ধরে।

৩০

 وَمَاتَشَاءُونَإِلَّاأَنْيَشَاءَاللَّهُإِنَّاللَّهَكَانَعَلِيمًاحَكِيمًا

ওয়ামা-তাশাঊনা ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হ; ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা-

এবং তোমরা কি চাও? কিন্তু তাই হয় যা আল্লাহ্‌ চান। নিশ্চয় তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞাময়;

৩১

 يُدْخِلُمَنْيَشَاءُفِيرَحْمَتِهِوَالظَّالِمِينَأَعَدَّلَهُمْعَذَابًاأَلِيمًا

ইউদখিলুমাইঁ ইয়াশাউ ফী রাহমাতিহী ওয়াজ্জা-লিমীনা আ‘আদ্দা লাহুম ‘আযাবান আলীমা-

আপন করুণার মধ্যেশামিল করে নেন যাকে চান; এবং যালিমদের জন্য তিনি বেদনাদায়ক শাস্তি তৈরি করেরেখেছেন।

সূরা দাহর এর নামকরণ

সূরাটির একটি নাম ‘আদ্ দাহর’ এবং অপর নামটি আল ইনসান।  দুটো নামই এর প্রথম আয়াতের هَلْأَتَىٰعَلَىالْإِنسَانِএবং حِينٌمِّنَالدَّهْرِআয়াতাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে।

সূরা দাহর নাযিল হওয়ার সময়-কাল

অধিকাংশ মুফাসসির  বলেছেন যে, এটি মক্কায় অবতীর্ণ সূরা।  আল্লামা যামাখশারী র., ইমাম রাযী, কাজী বায়যাবী, হাফেয ইবনে কাসীর এবং আরো অনেকে এটিকে মক্কী সূরা বলেই উল্লেখ করেছেন।  কিন্তু অপর কিছুসংখ্যক তাফসীরকারের মতে পুরা সূরাটিই মাদানী ।

আবার কারো কারো মতে এটি মক্কী সূরা হলেও এর ৮ থেকে ১০ পর্যন্ত আয়াতগুলো মদীনায় নাযিল হয়েছে। অবশ্য এ সূরার বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভঙ্গি মাদানী সূরাসমূহের বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভঙ্গি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরং এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে স্পষ্ট বুঝা যায়, এটি যে মক্কায় অবতীর্ণ শুধু তাই নয়, বরং মক্কী যুগেরও সূরা মুদ্দাস্সিরের প্রথম সাতটি আয়াত নাযিল হওয়ার পর যে পর্যায়টি আসে সে সময় নাযিল হয়েছিল ।

সূরা দাহর এর বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

সূরাটির বিষয়বস্তু হলো দুনিয়ায় মানুষকে তার প্রকৃত হাকিকত সম্পর্কে অবহিত করা । তাকে একথা জানিয়ে দেয়া যে, সে যদি তার এ মর্যাদা ও অবস্থানকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করে শোকর বা কৃতজ্ঞতামূলক আচরণ করে তাহলে তার পরিণতি কি হবে এবং তা না করে যদি কুফরীর পথ অবলম্বন করে তাহলেই বা কি ধরনের পরিণতির সম্মুখীন হবে। কুরআনের বড় বড় সূরাগুলোতে এ বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু মক্কী যুগের প্রথম পর্যায়ে অবতীর্ণ সূরাগুলোর একটি বিশেষ বর্ণনাভঙ্গি হলো পরবর্তী সময়ে যেসব বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এ যুগে সে বিষয়গুলোই অতি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও মর্মস্পর্শী পন্থায় মন-মগজে গেঁথে দেয়া হয়েছে।

এজন্য সুন্দর ও ছোট ছোট এমন বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে যা আপনা আপনি শ্রোতার মুখস্ত হয়ে যায় এতে সর্বপ্রথম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে, এক সময় এমন ছিল, যখন সে কিছুই ছিল না। তারপর সংমিশ্রিত বীর্য দ্বারা এত সূক্ষ্মভাবে তার সৃষ্টির সূচনা করা হয়েছে যে, তার মা পর্যন্তও বুঝতে পারেনি যে, তার অস্তিত্বের সূচনা হয়েছে। অন্য কেউও তার এ অণুবীক্ষণিক সত্তা দেখে একথা বলতে সক্ষম ছিল না যে, এটাও আবার কোনো মানুষ, যে পরবর্তী সময়ে এ পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা হিসেবে গণ্য হবে। এরপর মানুষকে এ বলে সাবধান করা হয়েছে যে, এভাবে তোমাকে সৃষ্টি করে এ পর্যায়ে তোমাকে পৌঁছানোর কারণ হলো তোমাকে দুনিয়াতে রেখে আমি পরীক্ষা করতে চাই।

তাই অন্যান্য সৃষ্টির সম্পূর্ণ বিপরীত তোমাকে বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন করে সৃষ্টি করেছি এবং তোমার সামনে শোকর ও কুফরের দুটি পথ স্পষ্ট করে রেখে দেয়া হয়েছে। এখানে কাজ করার জন্য তোমাকে কিছু সময়ও দেয়া হয়েছে। এখন আমি দেখতে চাই এ সময়ের মধ্যে কাজ করে অর্থাৎ এভাবে গৃহীত পরীক্ষার মাধ্যমে তুমি নিজেকে শোকরগোজার বান্দা হিসেবে প্রমাণ করো না কাফের বান্দা হিসেবে প্রমাণ করো। অতপর যারা এ পরীক্ষায় কাফের বলে প্রমাণিত হবে আখেরাতে তাদের কি ধরনের পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে তা শুধু একটি আয়াতের মাধ্যমেই পরিষ্কার ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে।

তারপর আয়াত নং ৫ থেকে ২২ পর্যন্ত একাদিক্রমে সেসব পুরস্কার ও প্রতিদানের কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা দিয়ে সেসব লোকদের তাদের রবের কাছে অভিষিক্ত করা হবে, যারা এখানে যথাযথভাবে বন্দেগী করেছে। এ আয়াতগুলোতে শুধুমাত্র তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দেয়ার কথার বর্ণনা করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়নি, বরং সংক্ষেপে একথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, কি কি কাজের জন্য তারা এ প্রতিদান লাভ করবে। মক্কী যুগে অবতীর্ণ সূরাসমূহের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, তাতে ইসলামের মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে অতি মূল্যবান নৈতিক গুণাবলী এবং নেক কাজের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে।

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন সব কাজ-কর্ম ও এমন সব মন্দ নৈতিক দিকের উল্লেখ করা হয়েছে যা থেকে ইসলাম মানুষকে পবিত্র করতে চায়। আর দুনিয়ার এ অস্থায়ী জীবনে ভাল অথবা মন্দ কি ধরনের ফলাফল প্রকাশ পায় সেদিক বিবেচনা করে এ দুটি জিনিস বর্ণনা করা হয়নি, বরং আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে তার স্থায়ী ফলাফল কি দাঁড়াবে কেবল সে দিকটি বিবেচনা করেই তা বর্ণনা করা হয়েছে। দুনিয়ার এ জীবনে কোনো খারাপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট কল্যাণকর প্রমাণিত হোক বা কোনো ভাল চারিত্রিক গুণ ক্ষতিকর প্রমাণিত হোক তা এখানে বিবেচ্য নয় । এ পর্যন্ত প্রথম রুকূ’র বিষয়বস্তু বর্ণনা করা হলো। এরপর দ্বিতীয় রুকূ’তে রসূলুল্লাহ সা.-কে সম্বোধন করে তিনটি কথা বলা হয়েছে।

এক, এ কুরআনকে অল্প অল্প করে তোমার ওপরে আমিই নাযিল করছি। এর উদ্দেশ্য নবী সা.-কে সাবধান করে দেয়া নয়, বরং কাফেরদের সাবধান করে দেয়া। কাফেরদের সাবধান করা হয়েছে এই বলে যে, কুরআন মজীদ মুহাম্মদ সা.-এর মনগড়া বা স্বরচিত গ্রন্থ নয়, বরং তার নাযিলকর্তা আমি নিজে । আমার জ্ঞান ও কর্মকৌশলের দাবী হলো, আমি যেন তা একবারে নাযিল না করি বরং অল্প অল্প করে বারে বারে নাযিল করি।

দ্বিতীয় যে কথাটি নবী সা.-কে বলা হয়েছে তাহলো, তোমার রবের ফয়সালা আসতে যত দেরীই হোক না কেন এবং এ সময়ের মধ্যে তোমার ওপর দিয়ে যত কঠিন ঝড়-ঝঞ্ঝাই বয়ে যাক না কেন তুমি সর্বাবস্থায় ধৈর্যের সাথে তোমার রিসালাতের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে থাকো। কখনো এসব দুষ্কর্মশীল ও সত্য অস্বীকারকারী লোকদের কারো চাপে পড়ে নতি স্বীকারও করবে না।

তৃতীয় যে কথাটি তাঁকে বলা হয়েছে তাহলো, রাত দিন সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করো, নামায পড় এবং আল্লাহর ইবাদাতে রাত কাটিয়ে দাও। কারণ কুফরের বিধ্বংসী প্লাবনের মুখে এ জিনিসটিই আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের পা-কে দৃঢ় ও মযবুত করে। এরপর আরেকটি ছোট বাক্যে কাফেরদের ভ্রান্ত আচরণের মূল কারণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, তারা আখেরাতকে ভুলে দুনিয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় আরেকটি বাক্যে তাদের এ মর্মে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা নিজে নিজেই জন্ম লাভ করোনি। আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, বুকের এ চওড়া ছাতি এবং মযবুত ও সবল হাত-পা তুমি নিজেই নিজের জন্য বানিয়ে নাওনি। ওগুলোও আমি তৈরি করেছি। আমি তোমাদের যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। সবসময়ের জন্য সে ক্ষমতা আমার করায়ত্ব। আমি তোমাদের চেহারা ও আকৃতি বিকৃত করে দিতে পারি। তোমাদের ধ্বংস করে অন্য কোনো জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারি। তোমাদের মেরে ফেলার পর যে চেহারা ও আকৃতিতে ইচ্ছা পুনরায় তোমাদের সৃষ্টি করতে পারি ।

সবশেষে এ বলে বক্তব্য শেষ করা হয়েছে যে, এ কুরআন একটি উপদেশপূর্ণ বাণী। যার ইচ্ছা সে গ্রহণ করে তার প্রভুর পথ অবলম্বন করতে পারে। তবে দুনিয়াতে মানুষের ইচ্ছা সবকিছু নয়। আল্লাহর ইচ্ছা না হওয়া পর্যন্ত কারো ইচ্ছাই পূরণ হতে পারে না। তবে আল্লাহর ইচ্ছা অযৌক্তিতভাবে হয় না। তিনি যা-ই ইচ্ছা করুন না কেন তা হয় নিজের জ্ঞান ও কর্মকৌশলের আলোকে । এ জ্ঞান ও কর্মকৌশলের ভিত্তিতে তিনি যাকে তাঁর রহমতলাভের উপযুক্ত মনে করেন তাকে নিজের রহমতের অন্তরভুক্ত করে নেন। আর তাঁর কাছে যে যালেম বলে প্রমাণিত হয় তার জন্য তিনি অত্যন্ত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন ।

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam  Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস

সব সংবাদ