আমাকে চায়ের দোকানে কেউ দেখে না

পবিত্র কুরআনের ১১০ তম সূরা আন নছর । আয়াত সংখ্যা ৩টি। সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়। তাই মাদানী সূরার শ্রেণীভুক্ত হয়েছে। এ সূরায় রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত আছে বিধায় এর নাম "তাওদী" হয়েছে।
শানে নুযুল:
সূরা আন নছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ হয়। মক্কা বিজয় এবং রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর আগমন ও অবস্থানের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সূরাটি নাজিল হয়। এই সূরাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য হল এই যে, মৃত্যু নিকটবর্তী প্রতীয়মান হলে একজন মুসলমানকে বেশি বেশি তাসবীহ ও ইস্তেগফার করতে হবে। আয়িশা (রা:) থেকে বর্ণিত যে, সূরা আন নছর নাজিল হওয়ার পর থেকে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) প্রত্যেক নামাজের পর ‘সুবহানাকা রাব্বানা ওয়া বেহামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলি’ দুয়াটি পাঠ করতেন।
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোত্রীয় প্রতিনিধিদল মদীনায় আসতে থাকে এবং দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। এ সূরায় মূলত মক্কা বিজয় এবং সাফল্যের জন্যে আল্লাহর সাহায্যের উপর গুরুত্বআরোপ করা হয়েছে। বিজয় মানুষের শক্তিমত্তার উপর নির্ভর করে না। শক্তিশালী দলও যুদ্ধে পরাজিত হয় অন্যদিকে দুর্বল দল হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর সাহায্যে জয়ী লাভ করতে পারে। বদর যুদ্ধ তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ । অতঃপর উক্ত অনুগ্রহ লাভের শুকরিয়া স্বরূপ রাসূলের উচিত আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করা এবং বেশী বেশী তওবা-ইস্তেগফার করা, একথাগুলি বলা হয়েছে তৃতীয় অর্থাৎ শেষ আয়াতে।
ইবনে আব্বাস (রা:) এর বর্ণনা মতে এ সূরাটি নাযিল হবার পর রসূলুল্লাহ (সা) বলেন : আমাকে আমার মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে এবং আমর সময় পূর্ণ হয়ে গেছে। ( মুসনাদে আহমাদ , ইবনে জারীর , ইবনুল মুনযির ও ইবনে মারদুইয়া )
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত অন্যান্য রেওয়ায়াতগুলোতে বলা হয়েছে : এ সূরাটি নাযিল হবার পর রসূলুল্লাহ (সা) বুঝতে পেরেছিলেন যে , তাঁর দুনিয়া থেকে বিদায় নেবার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ( মুসনাদে আহমাদ , ইবনে জারীর)
সুরাটি সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা:) এর বক্তব্য:
হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, হযরত উমর (রা:) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বড় বড় জ্ঞানী ও সম্মানিত সাহাবীদের সাথে তাঁর মজলিসে আমাকে ডাকতেন। একথা বয়স্ক সাহাবীদের অনেকেই খারাপ চোখে দেখতো। তাঁরা বললেন , আমাদের ছেলেরাও তো এ ছেলেটির মতো , তাহলে শুধুমাত্র এ ছেলেটিকেই আমাদের সাথে মজলিসে শরীক করা হয়েছে কেন ? “ইমাম বুখারী বলেছেন যে, একথা বলেছিলেন হযরত আবদুর রহমান ইবন আউফ”।
হযরত উমর (রা:) বললেন , ইলমের ক্ষেত্রে এর যা মর্যাদা তা আপনারা জানেন। তারপর একদিন তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বয়স্ক সাহাবীদের ডাকলেন । তাঁদের সাথে আমাকেও ডাকলেন । আমি বুঝে ফেললাম তাদের মজলিসে আমাকে শরীক করার যৌক্তিকথা প্রমাণ করার জন্য আজ আমাকে ডাকা হয়েছে। আলাচনার এক পর্যায়ে হযরত উমর (রা) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন (إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا) সূরাটির ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি ? কেউ কেউ বললেন , এ সূরায় আমাদের হুকুম দেয়া হয়েছে , যখন আল্লাহর সাহায্যে আসে এবং আমরা বিজয় লাভ করি তখন আমাদের আল্লাহর হামদ ও ইস্তিগফার করা উচিত । কেউ কেউ বললেন , এর অর্থ হচ্ছে , শহর ও দুর্গসমূহ জয় করা। অনেকে নীরব রইলেন এরপর হযরত উমর (রা:) বললেন , ইবনে আব্বাস তুমিও কি একথাই বলো ?
আমি (ইবনে আব্বাস (রা:) বললাম : না । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা হলে তুমি কি বলো? আমি বললাম : এর অর্থ হচ্ছে , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত। এ সূরায় জানানো হয়েছে, যখন আল্লাহর সাহায্য এসে যাবে এবং বিজয় লাভ হবে তখন আপনার সময় শেষ হয়ে গেছে , এগুলোই আলামত। কাজেই এরপর আপনি আল্লাহর হামদ ও ইস্তিগফার করুন। একথা শুনে হযরত উমর বললেন , তুমি যা বললে আমি ও এ ছাড়া আর কিছুই জানি না।
উচ্চারণ ও অনুবাদ:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ
১। ইযা জা- আনাসুরুল্লহি ওয়াল ফাতহু।
যখন আল্লাহর সাহায্য এসে যায় এবং বিজয় লাভ হয়
وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا
২। ওয়ারা আইতান্না-সা ইয়াদখুলুউনা, ফি দ্বীনিল্লাহি আফওয়া-জা।
আর (হে নবী) তুমি (যদি দেখ যে লোকেরা দলে দলে আল্লাহর দীন গ্রহণ করছে
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
৩। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াস্তাগ ফিরহু ইন্নাহু কা-না তাও-ওয়া-বা।
তখন তুমি তোমার রবের হামদ সহকারে তাঁর তাসবীহ পড়ো এবং তাঁর কাছে মাগফিরাত চাও৷ অবশ্যি তিনি বড়ই তাওবা কবুলকারী।