আমাকে চায়ের দোকানে কেউ দেখে না

আবরাহার হস্তী বাহিনীর ঘটনা
হাবশার বাদশাহর পক্ষ থেকে ইয়েমেন দেশে আবরাহা গভর্নর ছিল। সে ‘সানআ’তে একটি খুব বড় গির্জা নির্মাণ করিয়েছিল। আর চেষ্টা করল, যাতে লোকেরা কাবাঘর ছেড়ে দেয় এবং ইবাদত ও হজ-উমরাহর জন্য এখানে আসে। এ কাজ মক্কাবাসী তথা অন্যান্য আরব গোত্রের জন্য অপছন্দনীয় ছিল। অতএব তাদের মধ্যে একজন আবরাহার নির্মাণকৃত উপাসনালয়ে মলমূত্র ত্যাগ করে নোংরা করে দেয়।
বাদশাহ আবরাহার কাছে খবর পৌঁছাল যে, গির্জাকে কেউ নোংরা ও অপবিত্র করে দিয়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় সে কাবা ঘরকে ধ্বংস করার দৃঢ়সংকল্প করে নেয়। সে বহু সংখ্যক সৈন্যসহ মক্কায় হামলা করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বেশ কিছু হাতীও তাদের বড় অস্ত্র হিসেবে ছিল। মক্কার কাছে পৌঁছে সৈন্যরা (মক্কার সর্দার) নবী (সা.)-এর দাদার উটগুলি দখল করে নেয়।
খাজা আবদুল মুত্তালিব আবরাহাকে বললেন, আমার উটসগুলো ফিরিয়ে দাও; যা তোমার সৈন্যরা ধরে নিয়েছে। (আবরাহা বলল, এখন আমরা তোমাদের কাবা ধ্বংস করতে এসেছি, আর তুমি কেবল উট ছেড়ে দেওয়ার দাবি করছ? তিনি বললেন, উটগুলো আমার। তাই আমি সেগুলোর হিফাজত চাই।) বাকি থাকল কাবাঘরের ব্যাপার— যেটা তুমি ধ্বংস করতে এসেছ। সেটা হলো- তোমার ব্যাপার আল্লাহর সাথে। কাবা হলো আল্লাহর ঘর। তিনিই হলেন তার হিফাজতকারী। তুমি জানো আর বায়তুল্লাহর মালিক আল্লাহ জানেন।
অতঃপর যখন এই সৈন্যদল (মিনার কাছে) ‘মুহাসসার’ উপত্যকার নিকট পৌঁছল, তখন আল্লাহ তাআলা একটি পাখীর দল প্রেরণ করলেন— যাদের ঠোঁটে এবং পায়ে পোড়া মাটির কাঁকর ছিল; যা ছোলা অথবা মসুরীর দানা সমপরিমাণ ছিল। পাখীরা উপর থেকে সেই কাঁকর বর্ষণ করতে লাগল। যে সৈন্যের গায়ে এই কাঁকর লাগল, সে গলে গেল; তার শরীর হতে গোশত খসে পড়ল এবং পরিশেষে সে মারা গেল। ‘সানআ’ পৌঁছাতে পৌঁছাতে খোদ আবরাহারও একই পরিণাম হল। এইভাবে আল্লাহ তাআলা নিজ ঘরের রক্ষা করলেন।
অত্র সুরা শুরু হয়েছে أَلَمْ تَرَ দিয়ে। “আপনি কি দেখেননি” বলা হয়েছে। বাহ্যত এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে, অথচ এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের কিছুদিন পূর্বেকার ঘটনা। কোন কোন মুফাসসির এর সমাধানে বলেন, এখানে শুধু কুরাইশদেরকেই নয় বরং সমগ্র আরববাসীকেই সম্বোধন করা হয়েছে। তারা এই সমগ্র ঘটনা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত ছিল। কুরআন মজিদের বহু স্থানে ‘আলাম তারা’ বা আপনি কি দেখেননি? শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নয় বরং সাধারণ লোকদেরকে সম্বোধন করাই উদ্দেশ্য। [কুরতুবী]
অপর কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, যে ঘটনা এরূপ নিশ্চিত যে, তা ব্যাপকভাবে প্রত্যক্ষ করা হয়, সে ঘটনার জ্ঞানকেও দেখা বলে ব্যক্ত করা হয়; যেন এটা চাক্ষুষ ঘটনা। তাছাড়া, এক পর্যায়ে দেখাও প্রমাণিত আছে; যেমন কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, আয়েশা ও আসমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা দুজন হস্তীচালককে অন্ধ, বিকলাঙ্গ ও ভিক্ষুকরূপে দেখেছিলেন। বাইহাকী: দালায়েলুন নাবুওয়াহ, ১/৫২] [আত-তাহরীর ওয়াততানওয়ীর]
সূরা ফীল পবিত্র কুরআনের ১০৫ ম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। মাক্কী সূরার অন্তর্ভুক্ত এই সূরাটির আয়াত সংখ্যা ৫
সুরা ফিলের উচ্চারণ ও অর্থ:
اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ فَعَلَ رَبُّکَ بِاَصۡحٰبِ الۡفِیۡلِ
উচ্চারণ: আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল।
অর্থ: আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?
اَلَمۡ یَجۡعَلۡ کَیۡدَهُمۡ فِیۡ تَضۡلِیۡلٍউচ্চারণ: আলাম ইয়াজ‘আল কাইদাহুম ফী তাদলীল
অর্থ: তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?
وَّ اَرۡسَلَ عَلَیۡهِمۡ طَیۡرًا اَبَابِیۡلَ
উচ্চারণ: ওয়া আরছালা ‘আলাইহিম তাইরান আবা-বীল।
অর্থ: তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,
تَرۡمِیۡهِمۡ بِحِجَارَۃٍ مِّنۡ سِجِّیۡلٍ
উচ্চারণ: তারমীহিম বিহিজা-রাতিম মিন ছিজ্জীল।
অর্থ: যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
فَجَعَلَهُمۡ کَعَصۡفٍ مَّاۡکُوۡلٍ
উচ্চারণ: ফাজা‘আলাহুম কা‘আসফিম মা’কূল।
অর্থ: অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।