Dawatul Islam | সুরা হুমাযাহ- উচ্চারণ, অর্থ ও ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুরা হুমাযাহ- উচ্চারণ, অর্থ ও ব্যাখ্যা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৫:২২ মিনিট

সূরা হুমাযাহ (همزة) পবিত্র কুরআনের ১০৪ম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। মাক্কী সূরার অন্তর্ভুক্ত এই সূরাটির আয়াত সংখ্যা ৯।

উচ্চারণ ও অর্থ:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

অনুবাদ: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আরবিউচ্চারণবাংলা অনুবাদ

وَیۡلٌ لِّکُلِّ هُمَزَۃٍ لُّمَزَۃِۣ ۙ

(১) অইলুল্লি কুল্লি হুমাযা-তি ল্লুমাযাতি। (১) দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে সামনে নিন্দাকারী ও পেছনে গীবতকারী।

الَّذِیۡ جَمَعَ مَالًا وَّ عَدَّدَهٗ

(২) নিল্লাযী জ্বামা‘আ মা-লাওঁ অ‘আদ্দাদাহূ। (২) যে সম্পদ জমা করে এবং বার বার গণনা করে।

یَحۡسَبُ اَنَّ مَالَهٗۤ اَخۡلَدَهٗ ۚ

(৩) ইয়াহ্সাবু আন্না মা- লাহূ য় আখ্লাদাহ্। (৩) সে মনে করে তার সম্পদ তাকে চিরজীবি করবে।

کَلَّا لَیُنۡۢبَذَنَّ فِی الۡحُطَمَۃِ

(৪) কাল্লা-লাইয়ুম্বাযান্না ফিল্ হুত্বোয়ামাহ্। (৪) কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা’য়।

وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الۡحُطَمَۃُ

(৫) অমা-আদ্রা-কা মাল্ হুত্বোয়ামাহ্ (৫) আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি?

نَارُ اللّٰهِ الۡمُوۡقَدَۃُ

(৬) না-রুল্লা-হিল্ মূক্বদাতু (৬) আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন।

الَّتِیۡ تَطَّلِعُ عَلَی الۡاَفۡـِٕدَۃِ

(৭) আল্লাতী তাত্ত্বোয়ালিউ’‘আলাল্ আফ্য়িদাহ্। (৭) যা হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

اِنَّهَا عَلَیۡهِمۡ مُّؤۡصَدَۃٌ

(৮) ইন্নাহা- ‘আলাইহিম্ মু’ছোয়াদাতুন্ (৮) নিশ্চয় তা তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখবে

فِیۡ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ

(৯) ফী ‘আমাদিম্ মুমাদ্দাহ্ (৯) প্রলম্বিত স্তম্ভসমূহে।

অত্র সুরাতে ‘হুমাযাহ’ ও ‘লুমাযাহ’ দু'টি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে همز এর অর্থ গীবত অর্থাৎ পশ্চাতে পরনিন্দা করা এবং لمز এর অর্থ সামনাসামনি দোষারোপ করা ও মন্দ বলা। এ দুটি কাজই জঘন্য গোনাহ। [আদওয়াউল বায়ান]।

তাফসীরকারগণ এ শব্দ দুটির আরও অর্থ বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণিত তাফসীর অনুসারে উভয় শব্দ মিলে এখানে যে অর্থ দাঁড়ায় তা হচ্ছে: সে কাউকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। কারোর প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে অংগুলি নির্দেশ করে। চোখের ইশারায় কাউকে ব্যঙ্গ করে কারো বংশের নিন্দা করে। কারো ব্যক্তি সত্তার বিরূপ সমালোচনা করে। কারো মুখের ওপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে। কারো পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়। কোথাও এর কথা ওর কানে লাগিয়ে বন্ধুদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। কোথাও ভাইদের পারস্পরিক ঐক্যে ফাটল ধরায়। কোথাও লোকদের নাম বিকৃত করে খারাপ নামে অভিহিত করে। কোথাও কথার খোঁচায় কাউকে আহত করে এবং কাউকে দোষারোপ করে। এসব তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ এসবই মারাত্মক গোনাহ।

পিছনে পরনিন্দার শাস্তির কথা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ এরূপ হতে পারে যে, এ গোনাহে মশগুল হওয়ার পথে সামনে কোন বাধা থাকে না। যে এতে মশগুল হয়, সে কেবল এগিয়েই চলে। ফলে গোনাহ বৃহৎ থেকে বৃহত্তর ও অধিকতর হতে থাকে। সম্মুখের নিন্দা এরূপ নয়। এতে প্রতিপক্ষও বাধা দিতে প্ৰস্তুত থাকে। ফলে গোনাহ দীর্ঘ হয় না। এছাড়া কারও পশ্চাতে নিন্দা করা এ কারণেও বড় অন্যায় যে, সং ব্যক্তি জানতেও পারে না যে, তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। ফলে সে সাফাই পেশ করার সুযোগ পায় না।

আবার একদিক দিয়ে لمز তথা সম্মুখের নিন্দা গুরুতর। যার মুখোমুখি নিন্দা করা হয়, তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়। এর কষ্টও বেশি, ফলে শাস্তিও গুরুতর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা পরোক্ষ নিন্দা করে, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ লোকদের দোষ খুঁজে ফিরে।”

[মুসনাদে আহমাদ

সব সংবাদ