Dawatul Islam | সুরা আদিয়াত: উচ্চারণ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুরা আদিয়াত: উচ্চারণ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা
০৭ নভেম্বর ২০২২ ১০:৩৬ মিনিট


উচ্চারণ ও অনুবাদঃ

وَ الۡعٰدِیٰتِ ضَبۡحًا

১) ওয়াল ‘আ-দিয়া-তি দাবহা-।

১. শপথ উধৰ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির।

فَالۡمُوۡرِیٰتِ قَدۡحًا

২) ফাল মূরিয়া-তি কাদহা-।

২. অতঃপর যারা ক্ষুরের আঘাতে অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ

বিচ্ছুরিত করে।

فَالۡمُغِیۡرٰتِ صُبۡحًا

৩) ফাল মুগীরা-তি সুবহা-।

৩. অতঃপর যারা অভিযান করে প্রভাতকালে।

فَاَثَرۡنَ بِهٖ نَقۡعًا

৪) ফাআছারনা বিহী নাক‘আ-।

৪. ফলে তারা তা দ্বারা ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে।

فَوَسَطۡنَ بِهٖ جَمۡعًا

৫) ফাওয়াছাতানা বিহী জাম‘আ-।

৫. অতঃপর তা দ্বারা শত্রু দলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে।

اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لِرَبِّهٖ لَکَنُوۡدٌ

৬) ইন্নাল ইনছা-না লিরাব্বিহী লাকানূদ।

৬. নিশ্চয় মানুষ তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ।

وَ اِنَّهٗ عَلٰی ذٰلِکَ لَشَهِیۡدٌ ۚ

৭) ওয়া ইন্নাহূ‘আলা-যা-লিকা লাশাহীদ।

৭. আর নিশ্চয় সে এ বিষয়ে সাক্ষী।

وَ اِنَّهٗ لِحُبِّ الۡخَیۡرِ لَشَدِیۡدٌ

৮) ওয়া ইন্নাহূলিহুব্বিল খাইরি লাশাদীদ।

৮. আর নিশ্চয় সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল।

اَفَلَا یَعۡلَمُ اِذَا بُعۡثِرَ مَا فِی الۡقُبُوۡرِ

৯) আফালা-ইয়া‘লামুইযা-বু‘ছিরা মা-ফিল কুবূর।

৯. তবে কি সে জানে না যখন কবরে যা আছে

তা উত্থিত হবে?

وَ حُصِّلَ مَا فِی الصُّدُوۡرِ

১০) ওয়া হুসসিলা মা-ফিসসুদূর

১০. আর অন্তরে যা আছে তা প্ৰকাশ করা হবে?

اِنَّ رَبَّهُمۡ بِهِمۡ یَوۡمَئِذٍ لَّخَبِیۡرٌ

১১) ইন্না রাব্বাহুম বিহিম ইয়াওমাইযিল্লাখাবীর।

১১. নিশ্চয় তাদের রব সেদিন তাদের ব্যাপারে

সবিশেষ অবহিত।

সুরা আদিয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাঃ
সূরার শুরুতে মহান রাব্বুল আলামীন পরপর পাঁচটি আয়াতে সুপ্রশিক্ষিত, সুদক্ষ ও মালিকের প্রতি অনুগত সামরিক অশ্বের শত্রুপক্ষের উপরে দুঃসাহসিক হামলাকালীন অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের শপথ করে বলেছেন যে, মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি একান্তই অকৃতজ্ঞ। অথচ অবলা চতুষ্পদ জন্তু হওয়া সত্ত্বেও সামরিক অশ্বগুলি তাদের মনিবের প্রতি কতই না বিশ্বস্ত ও অনুগত যে, তারা মালিকের হুকুমে জীবন বাজি রেখে শত্রুপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে সৃষ্টিসেরা মানুষ তার সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা আল্লাহর হুকুমের প্রতি আনুগত্যশীল নয় এবং তাঁর অনুগ্রহ সমূহের প্রতি অকৃতজ্ঞ।

(১) وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحاً ‘শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্ব সমূহের’। عدَا يَعْدُو عَدْوًا ‘দৌড়ানো’। সেখান থেকে اسم فاعل (কর্তৃকারক) الْعَادِيَاتِ অর্থ الأفراس تعدو ‘ঐসব অশ্ব যারা দৌড়ায়’। ضَبَحَتِ الْخَيْلُ ضَبْحًا অর্থ صوتُ أنفاسِهَا إِذَا عَدَتْ ‘ঘোড়ার নিঃশ্বাসের শব্দ যখন সে দৌড়ায়’। ضَبْحًا বাক্যে حال হওয়ার কারণে যবরযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এটা ঐ সময় হয় যখন ঘোড়া ভীষণ জোরে দৌড়ায়। আত্বা ও ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ঘোড়া, কুকুর ও শিয়াল ব্যতীত অন্য পশু এরূপ শব্দ করে না (কুরতুবী)। এখানে অর্থ হ’ল যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের উপরে ভীষণ যোরে অতর্কিত হামলা করার লক্ষ্যে ‘ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্ব সমূহের শপথ’।

(২) فَالْمُوْرِيَاتِ قَدْحًا ‘অতঃপর ক্ষুরাঘাতে অগ্নি বিচ্ছুরক অশ্ব সমূহের’ وَرَى يَرِى وَرْيًا অর্থ إذا خرجت ناره ‘যখন লোহার ঘর্ষণে আগুন বের হয়’। এখানে إِيْرَاءٌ থেকে الْمُوْرِيَاتُ ‘অগ্নি বিচ্ছুরণকারী অশ্বসমূহ’। قَدْحًا অর্থ الاستخراج ‘বের করা’। যেমন বলা হয়, قَدَحْتُ الْعَيْنَ ‘আমি চক্ষু পরিস্কার করেছি’। অর্থ إذا اخرجت منها الماء الفاسد ‘যখন চোখ থেকে মন্দ পানি বের করা হয়’। এখানে অর্থ হবে ‘লোহার ঘর্ষণে আগুন বের করা’। এক্ষণে فَالْمُوْرِيَاتِ قَدْحاً অর্থ ইকরিমা, আত্বা, যাহহাক প্রমুখ বিদ্বান বলেন, هى الخيل حين تُورِى النارَ بحوافرها ‘ঐসব ঘোড়া (যখন প্রস্তরময় ভূমিতে লৌহনাল পরিহিত অবস্থায় প্রচন্ডবেগে দৌড়ায়, তখন) যারা তাদের পায়ের ক্ষুরসমূহ থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের করে’ (কুরতুবী)।

(৩) فَالْمُغِيْرَاتِ صُبْحاً ‘অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্ব সমূহের’ أَغَارَ يُغِيْرُ إغارةً، أغارَ على العدوِّ إذا هجم عليه- ‘ হামলা করা’। এখানে অর্থ الخيلُ تُغِير على العدو عند الصبح ‘ঐসব ঘোড়া যারা প্রভাতকালে শত্রুদের উপরে হামলা করে’। صُبْحاً বাক্যে حال হওয়ার কারণে যবরযুক্ত হয়েছে। আরবদের মধ্যে সাধারণতঃ প্রভাতকালে শত্রুর উপরে আক্রমণ করার নিয়ম ছিল। যেমন কাফেরদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِيْنَ- ‘অতঃপর যখন তাদের আঙিনায় আযাব নাযিল হবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটা হবে খুবই মন্দ’ (ছাফফাত ৩৭/১৭৭)।

(৪) فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعاً ‘যারা সে সময় ধূলি উৎক্ষেপণ করে’। أثَارَ يُثِيْرُ إثارةً অর্থ ‘উড়ানো’। نَقْعاً অর্থ ‘ধূলি’। بِهِ অর্থ بالعَدْو ‘দৌড়ের সাথে’। অর্থাৎ الخيلُ ةثير الغُبارَ بشدة العَدْو فى المكان الذى أغارت به ‘তীব্র বেগে হামলার কারণে আক্রমণস্থলে ঘোড়া ধূলি উৎক্ষেপণ করে’। আক্রমণস্থল বলতে طريق الوادى হ’তে পারে, যে পথে ধাবিত হয়ে শত্রুদলকে আক্রমণ করা হয়’ (কুরতুবী)। অর্থাৎ দৌড়ের বা যুদ্ধের তীব্রতার কারণে সকালে ঠান্ডা আবহাওয়াতেও আকাশে ধূলি উৎক্ষিপ্ত হয়।

(৫) فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعاً ‘অতঃপর যারা শত্রুদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে’। وَسْطٌ অর্থ ‘মধ্যখান’ جَمْعٌ অর্থ ‘দল’। এখানে جموعًا من الأعداء ‘বিপক্ষীয় সেনাদল’। جَمْعًا বাক্যে مفعول به হয়েছে। এক্ষণে فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا অর্থ فوسطن بركبانهن العدو ‘আরোহীদের নিয়ে তারা শত্রুদলের অভ্যন্তরভাগে ঢুকে পড়ে’ (কুরতুবী)। 

(৬) إِنَّ الْإِنْسَانَ لِرَبِّهِ لَكَنُوْدٌ ‘নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ’। الإِنْسَانَ দ্বারা ‘মানবজাতি’ বুঝানো হয়েছে। যা সমষ্টিবাচক এবং মর্মগত দিক দিয়ে বহুবচন। কিন্তু শব্দগতভাবে একবচন হওয়ায় لِرَبِّهِ (‘তার পালনকর্তার প্রতি’) বলে একবচনের সর্বনাম আনা হয়েছে। এটি উপরে বর্ণিত শপথগুলির জওয়াব (جواب القسم) হিসাবে এসেছে। অর্থাৎ মনিবের প্রতি অনুগত সুদক্ষ যুদ্ধাশ্বের শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই মানুষ তার মালিকের প্রতি অকৃতজ্ঞ। অতএব অবাধ্য হওয়াটাই যেন মানুষের স্বভাব। যেমন অন্যত্র আল্লাহ বলেন, إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوْعاً، إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوْعاً، وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوْعاً ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ভীরুরূপে’। ‘যখন তাকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন সে দিশেহারা হয়ে পড়ে’। ‘আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়’ (মা‘আরেজ ৭০/১৯-২১)।

(৭) وَإِنَّهُ عَلَى ذَلِكَ لَشَهِيْدٌ ‘এবং সে নিজেই এ বিষয়ে সাক্ষী’। অর্থাৎ মানুষ যে আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ, তার কথা ও কর্মই তার জ্বলন্ত সাক্ষী। আর সে নিজেই এ বিষয়ে ভালভাবে অবহিত। তবে অনেক বিদ্বান وَإِنَّهُ -এর সর্বনামকে আল্লাহর দিকে রুজু বলেছেন। যার অর্থ হবে ‘এবং আল্লাহ তার ব্যাপারে অবশ্যই অবগত’। দু’টি অর্থই প্রযোজ্য। অর্থাৎ বান্দা নিজেও যেমন তার নিজের অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত, আল্লাহ তেমনি সম্যক অবগত। যেমন আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِيْنَ أَنْ يَّعْمُرُوْا مَسَاجِدَ الله شَاهِدِيْنَ عَلَى أَنفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ- ‘আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করার যোগ্যতা মুশরিকদের নেই, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর উপরে সাক্ষী …’ (তওবা ৯/১১)। অর্থাৎ মানুষ যে আল্লাহর হাযারো অনুগ্রহ লাভের পরেও তার প্রতি অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য, তার কথা ও কর্মই তার বড় সাক্ষী। আল্লাহ বলেন, يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُوْنَ ‘যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে তাদের যবান, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে’ (নূর ২৪/২৪)। এ ব্যাপারে বান্দা যেমন সাক্ষী, আল্লাহ তেমনি সাক্ষী।

(৮) وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيْدٌ ‘নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের মায়ায় অন্ধ’। ইবনু কাছীর বলেন, এর দু’টি অর্থ হ’তে পারে। এক- সে ধনলিপ্সায় অন্ধ। দুই- ধনলিপ্সার কারণে সে প্রচন্ড কৃপণ’ (ইবনু কাছীর)। الْخَيْر অর্থ المال ‘সম্পদ’। যেমন আল্লাহ বলেন, كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِيْنَ بِالْمَعْرُوْفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِيْنَ ‘যখন তোমাদের কারু মৃত্যু হাযির হয়, তখন সে যদি মাল-সম্পদ ছেড়ে যায়, তাহ’লে তার পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য বৈধভাবে অছিয়ত করা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করা হ’ল’ (বাক্বারাহ ২/১৮০)।

(৯) أَفَلاَ يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِيْ الْقُبُوْرِ ‘সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে’। অর্থ أفلا يعلم الإنسان ‘মানুষ কি জানেনা? أَفَلاَ অর্থ ألاَ এখানে فاء ‘অতিরিক্ত’ আনা হয়েছে প্রশ্নকে যোরদার করার জন্য এবং বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য (استفهام تقريري)। এক্ষণে অর্থ হবে ‘তবে কি মানুষ জানে না? সে কি তার স্বাভাবিক জ্ঞান দিয়ে বুঝতে পারে না? সে যেভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠে, অনুরূপভাবে সে কি তার কবর থেকে জেগে উঠবে না? أَفَلاَ يَعْلَمُ অর্থ أَفَلاَ يَتَيَقَّنُ ‘সে কি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না’? এখানে একবচন দ্বারা ‘আদম সন্তান’ (ابن آدم) অথবা ‘মানুষ’ (الإنسان) বুঝানো হয়েছে। بَعْثَرَ يُبَعْثِرُ بَعْثَرَةً অর্থ قَلَبَ ‘উলট-পালট করা’। جَعَلَ أَسْفَلَهُ أَعْلاَهُ ‘নীচের অংশ উপরে উঠানো’। এখানে بُعْثِرَ অর্থ نُشِرَ، قُلِبَ উত্থিত হওয়া। যেমন আল্লাহ পুনরুত্থান সম্পর্কে উদাহরণ দিয়ে বলেন, وَاللهُ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَاهُ إِلَى بَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا كَذَلِكَ النُّشُوْرُ ‘আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করে তার দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন। অতঃপর তার মাধ্যমে আমরা মৃত যমীনকে জীবিত করি ওর মৃত্যুর পর। (আর) পুনরুত্থান এভাবেই হবে’ (ফাত্বির ৩৫/৯)।

(১০) وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُوْرِ ‘এবং বুকের মধ্যে যা লুকানো ছিল সব প্রকাশিত হবে’। حُصِّلَ অর্থ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, اُبْرِزَ ‘প্রকাশিত হবে’ (কুরতুবী)। ইবনু আববাস (রাঃ) ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেন, তাদের অন্তরে যেসব বিষয় লুকানো ছিল, সেদিন সব প্রকাশিত হবে’ (ইবনু কাছীর)। মানুষের বাহ্যিক দিকটাই দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়ে থাকে। এমনকি মুনাফিকও খাঁটি মুসলিমের মত আচরণ করে। কিন্তু আখেরাতে মানুষের মনের খবর সব প্রকাশ পেয়ে যাবে। আর তার উপরেই তার কর্মফল নির্ধারিত হবে। যেমন আল্লাহ বলেন, يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ، فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلاَ نَاصِرٍ ‘যেদিন গোপন বিষয় সমূহ পরীক্ষিত হবে’। ‘সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না’ (তারিক্ব ৮৬/৯-১০)। ৯ আয়াতে বলা হয়েছে কবরে যা ছিল সব উত্থিত হবে এবং ১০ আয়াতে বলা হয়েছে বুকের মধ্যে যা লুকানো ছিল, সব প্রকাশিত হবে, দু’টি আয়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য খুবই স্পষ্ট।

(১১) إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيْرٌ ‘নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালক সেদিন তাদের কি হবে, সে বিষয়ে সম্যক অবগত’। ইতিপূর্বে ৯ আয়াতে أَفَلاَ يَعْلَمُ ‘(সে কি জানেনা?) একবচন ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে رَبَّهُمْ (তাদের প্রতিপালক) বলে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে ৬ আয়াতে বর্ণিত إِنَّ الْإِنْسَانَ (‘মানুষ’)-এর প্রতি লক্ষ্য রেখে। কেননা ‘মানুষ’ বলে মানবজাতি বুঝানো হয়েছে, যা সমষ্টির অর্থ দেয়। يَوْمَئِذٍ অর্থ يَوْمُ الْحِسَابِ وَالْجَزَاءِ ‘হিসাব ও প্রতিদান দিবস’। يَوْمَئِذٍ এর عامل হ’ল لَخَبِيْرٌ অর্থাৎ اِنَّهُ خَبِيْرٌ يَوْمَئِذٍ ‘তিনি ঐ দিন সম্পর্কে সম্যক অবগত’। বস্ত্ততঃ يَوْمَئِذٍ، حِيْنَئِذٍ، بَعْدَإِذٍ প্রভৃতি কালবোধক যৌগিক শব্দগুলি সর্বদা উহ্য عامل -এর معمول হিসাবে আসে এবং সর্বদা যবরযুক্ত (مبنى على الفتح) হয়ে থাকে। خَبِيْرٌ অর্থ عالم بأسرارهم وضمائرهم وأعمالهم ‘তাদের সকল গোপন ও অন্তরের বিষয় সমূহ এবং তাদের কর্মসমূহ সম্পর্কে অবগত’। ইমাম রাযী বলেন, হৃদয়ের কর্মসমূহকে খাছ করার কারণ হ’ল এই যে, দৈহিক কর্মসমূহ (أعمال الجوارح) হৃদয়ের কর্মসমূহের (أعمال القلوب) অনুগামী। 
সব সংবাদ