Dawatul Islam | সূরা আশ শামস- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সূরা আশ শামস- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
০১ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:০০ মিনিট
সূরার নাম : সূরা আশ শামস।  
সূরা নং : ৯১
আয়াত সংখ্যা : ১৫
শ্রেণী : মাক্কী।
সূরার অর্থ : সূর্য।

 

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহ তা’আলার নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(১) وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا
উচ্চারণ: ওয়াশ শামছি ওয়াদু হা-হা-।
অর্থ: শপথ সূর্যের ও তার কিরণের,

(২) وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا
উচ্চারণ: ওয়াল কামারি ইযা-তালা-হা-।
অর্থ: শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে,

(৩) وَالنَّهَارِ إِذَا جَلَّاهَا
উচ্চারণ: ওয়ান্নাহা-রি ইযা জাল্লা-হা-।
অর্থ: শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে,

(৪) وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا
উচ্চারণ: ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াগশা-হা-।
অর্থ: শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে,

(৫) وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا
উচ্চারণ: ওয়াছ ছামাই ওয়ামা-বানা-হা-।
অর্থ: শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর।

(৬) وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا
উচ্চারণ: ওয়াল আরদিওয়ামা-তাহা-হা-।
অর্থ: শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর,

(৭) وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا
উচ্চারণ: ওয়া নাফছিওঁ ওয়া মা-ছাওওয়া-হা-।
অর্থ: শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর,

(৮) فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
উচ্চারণ: ফাআলহামাহা-ফুজূরাহা-ওয়া তাকওয়া-হা-।
অর্থ: অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন,

(৯) قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
উচ্চারণ: কাদ আফলাহা মান ঝাক্কা-হা-।
অর্থ: যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়।

(১০) وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
উচ্চারণ: ওয়া কাদ খা-বা মান দাছ ছা-হা-।
অর্থ: এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।

(১১) كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَاهَا
উচ্চারণ: কাযযাবাত ছামূদুবিতাগওয়া-হা।
অর্থ: সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ মিথ্যারোপ করেছিল।

(১২) إِذِ انبَعَثَ أَشْقَاهَا
উচ্চারণ: ইযিম বা‘আছা আশকা-হা-।
অর্থ: যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।

(১৩) فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا
উচ্চারণ: ফাকা-লা লাহুম রাছূলুল্লা-হি না-কাতাল্লা-হি ওয়া ছুকইয়া-হা-।
অর্থ: অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।

(১৪) فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا
উচ্চারণ: ফাকাযযাবূহু ফা‘আকারূহা- ফাদামদামা ‘আলাইহিম রাব্বুহুম বিযামবিহিম ফাছাওওয়াহা-।
অর্থ: অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর বাংলা অর্থ: ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন।

(১৫) وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا
উচ্চারণ: ওয়ালা-ইয়াখা-ফু‘উকবা-হা-।
অর্থ: আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।

 

সূরাটি দু’ভাগে বিভক্ত

প্রথম অংশে তিনটি কথা বুঝানো হয়েছে ।  এক , সূর্য ও চন্দ্র , দিন ও রাত , পৃথিবী ও আকাশ যেমন পরস্পর থেকে ভিন্ন এবং প্রভাব ও ফলাফলের দিক দিয়ে পরস্পর বিরোধী , ঠিক তেমনি সৎ ও অসৎ এবং নেকী ও গোনাহও পরস্পর ভিন্ন এবং প্রভাব ও ফলাফলও এক হতে পারে না।

মহান আল্লাহ মানবাত্মাকে দেহ , ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি শক্তি দিয়ে দুনিয়ায় একেবারে চেতনাহীনভাবে ছেড়ে দেননি বরং একটি প্রাকৃতিক চেতনার মাধমে তার অবচেতন মনে নেকী ও গোনাহর পার্থক্য , ভালো ও মন্দের প্রভেদ এবং ভালোর ভালো হওয়া ও মন্দের হওয়ার বোধ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তিন , মানুষের মধ্যে পার্থক্য বোধ , সংকল্প ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের যে শক্তিসমূহ আল্লাহ রেখে দিয়েছেন , সেগুলো ব্যবহার করে সে নিজের প্রবৃত্তির ভালো ও মন্দ প্রবণতাগুলোর মধ্য থেকে কাউকে উদ্দীপিত করে আবার কাউকে দাবিয়ে দেয়। এরি ওপর তার ভবিষ্যত নির্ভর করে। যদি সে সৎপ্রবণতাগুলোকে উদ্দীপিত করে এবং অসৎ প্রবণতাসমূহ থেকে নিজের নফসকে পবিত্র করে তাহলে সে সাফল্য লাভ করবে। বিপরীত পক্ষে যদি সে নফসের সৎপ্রবণতাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকে এবং অসৎ প্রবণতাকে উদ্দীপিত করতে থাকে তাহলে সে ব্যর্থ হবে।

দ্বিতীয় অংশে ভালো ও মন্দের যে চেতনালব্ধজ্ঞান আল্লাহ মানুষের প্রকৃতিতে রেখে দিয়েছেন তা মানুষের সঠিক পথের সন্ধান লাভ করার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং তাকে পুরোপুরি না বুঝার কারণে মানুষ ভালো ও মন্দের বিভ্রান্তিকর দর্শন ও মানদণ্ড নির্ণয় করে পথভ্রষ্ট হতে থেকেছে। তাই মহান আল্লাহ এই প্রকৃতিগত চেতনাকে সাহায্য করার জন্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের ওপর সুস্পষ্ট এ দ্ব্যর্থহীন অহী নাযিল করেছেন। এর ফলে তাঁরা সুস্পষ্টভাবে লোকদেরকে নেকী ও গোনাহ কি তা জানাতে পারবেন । এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ দুনিয়ায় নবী ও রসূল পাঠিয়েছেন। এই ধরনেরই একজন নবী ছিলেন হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম। তাঁকে সামূদ জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সামূদরা তাদের প্রবৃত্তির অসৎপ্রবণতার মধ্যে ডুবে গিয়ে বড় বেশী হুকুম অমান্য করার ভূমিকা অবলম্বন করেছিল। যার ফরে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তাদের মু’জিযা দেখাবার দাবী অনুযায়ী তিনি তাদের সামনে একটি উঠনী পেশ করলেন। তাঁর সাবধান বাণী সত্ত্বেও এই জাতীয় সবচেয়ে দুশ্চরিত্র ব্যক্তিটি সমগ্র জাতির ইচ্ছা ও দাবী অনুযায়ী উটনীটিকে হত্যা করলো। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সমগ্র জাতি ধ্বংস ও বরবাদ হয়ে গেলো।

সামূদ জাতির এ কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে সমগ্র সূরার কোথাও একথা বলা হয়নি যে , হে কুরাইশ সম্প্রদায় ! যদি তোমরা সামূদদের মতো তোমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রত্যাখ্যান করো তাহলে তোমরাও সামূদের মতো একই পরিণামের সম্মুখীন হবে। সালেহ আলাইহিস সালামের মোকাবেলায় সামূদ জাতির দুশ্চরিত্র লোকেরা যে অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছিল মক্কায় সে সময় সেই একই অবস্থা বিরাজ করছিল। তাই এ অবস্থায় এই কাহিনী শুনিয়ে দেয়াটা আসলে সামূদদের এই ঐতিহাসিক নজীর কিভাবে মক্কাবসীদের সাথে খাপ খেয়ে যাচ্ছে , তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস, সূরা আশ শামস বাংলা উচ্চারণ, সূরা আশ শামস এর ব্যাখ্যা,সূরা আশ শামস এর অনুবাদ,সূরা আশ শামস এর শানে নুযুল,সূরা আশ শামস আয়াত ৯,সূরা আশ শামস এর ফজিলত,সূরা আশ শামস এর শিক্ষা,সূরা আশ শামস আয়াত ১০।


সব সংবাদ