Dawatul Islam | সূরা ফজর- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সূরা ফজর- উচ্চারণ, অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
১৪ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:০০ মিনিট

সূরার নাম : সূরা ফজর

সূরার অর্থ : ভোর, প্রভাত

সূরা নং : ৮৯

রুকু : ১

আয়াত: ৩০

সিজদা সংখ্যা : ০

শব্দ: ১৩৯

পারার সংখ্যা : ৩০

অক্ষর: ৫৭৩

মক্কায় অবতীর্ণ

 

 

আরবি

উচ্চারণ

অনুবাদ

(১) وَالْفَجْرِ

ওয়াল ফাজর

শপথ ফজরের

(২) وَلَيَالٍ عَشْرٍ

ওয়া লায়া-লিন ‘আশর

শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার

(৩) وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ

ওয়াশশাফা‘ই ওয়াল ওয়াতর

যা জোড় ও যা বিজোড়

(৪) وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ

ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াছর।

এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে

(৫) هَلْ فِي ذَٰلِكَ قَسَمٌ لِّذِي حِجْرٍ

হাল ফী যা-লিকা কাছামুল লিযী হিজর।

এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।

(৬) أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ

আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বি‘আ-দ।

আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন

(৭) إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ

ইরামা যা-তিল ‘ইমা-দ

যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং

(৮) الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ

আল্লাতী লাম ইউখলাকমিছলুহা-ফিল বিলা-দ।

যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি

(৯) وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ

ওয়া ছামূদাল্লাযীনা জা-বুসসাখরা বিল ওয়া-দ।

বাংলা অর্থ: এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।

(১০) وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ

ওয়া ফির‘আউনা যীল আওতা-দ।

এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে

(১১) الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ

আল্লাযীনা তাগাও ফিল বিলা-দ।

যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।

(১২) فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ

ফাআকছারূ ফীহাল ফাছা-দ।

অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।

(১৩) فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ

ফাসাব্বা ‘আলাইহিম রাব্বুকা ছাওতা ‘আযা-ব।

অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।

(১৪) إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ

ইন্না রাব্বাকা লাবিলমিরসা-দ।

নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

(১৫) فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِ

ফাআম্মাল ইনছা-নুইযা-মাবতালা-হু রাব্বুহু ফাআকরামাহূওয়া না‘‘আমাহূ ফাইয়াকূলু রাববীআকরামান।

মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।

(১৬) وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَاهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِ

ওয়া আম্মাইযা-মাবতালা-হু ফাকাদারা ‘আলাইহি রিঝকাহূ ফাইয়াকূলুরাববী আহা-নান।

এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।

(১৭) كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ

কাল্লা-বাল্লা-তুকরিমূনাল ইয়াতীম।

এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।

(১৮) وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

ওয়া লা-তাহাদ্দূ না ‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন।

এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।

(১৯) وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلًا لَّمًّا

ওয়া তা’কুলূনাত তুরা-ছা আকলাল্লাম্মা-।

এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল

(২০) وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا

ওয়া তুহিব্বুনাল মা-লা হুব্বান জাম্মা-।

এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।

(২১) كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا

কাল্লাইযা-দুক্কাতিল আরদুদাক্কান দাক্কা-।

এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে

(২২) وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا

ওয়া জাআ রাব্বুকা ওয়াল মালাকুসাফফান সাফফা-।

এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন

(২৩) وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنسَانُ وَأَنَّىٰ لَهُ الذِّكْرَىٰ

ওয়া জীআ ইয়াওমাইযিম বিজাহান্নামা ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াতাযাক্কারুল ইনছা-নুওয়া আন্না-লাহুযযিকরা-।

এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?

(২৪) يَقُولُ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي

ইয়াকূ লুইয়া-লাইতানী কাদ্দামতুলিহায়া-তী।

সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!

(২৫) فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ

ফাইয়াওমাইযিল লা-ইউ‘আযযি বু‘আযা-বাহূআহাদ।

সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।

(২৬) وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ

ওয়ালা-ইঊছিকুওয়াছা-কাহূআহাদ।

এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।

(২৭) يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ

ইয়াআইয়াতুহান্নাফছুল মুতমাইন্নাহ

হে প্রশান্ত মন

(২৮) ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً

ইরজি‘ঈইলা-রাব্বিকি রা-দিয়াতাম মারদিইয়াহ।

তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।

(২৯) فَادْخُلِي فِي عِبَادِي

ফাদখুলী ফী ‘ইবা-দী।

অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।

(৩০) وَادْخُلِي جَنَّتِي

ওয়াদখুলী জান্নাতী।

এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।

 

সুরাটির মূল বক্তব্য :

প্রথম ফজর , দশটি রাত , জোড় ও বেজোড় এবং বিদায়ী রাতের কসম খেয়ে শ্রোতাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছে , যে বিষয়টি তোমরা অস্বীকার করছো তার সত্যতার সাক্ষ দেবার জন্য কি এই জিনিসগুলো যথেষ্ট নয় ? সামনের দিকে টীকায় আমি এ চারটি জিনিসের ব্যাখ্যা দিয়েছি তা থেকে জানা যাবে যে, দিন রাত্রির ব্যবস্থায় যে, নিয়মানুবর্তিতা দেখা যায় এগুলো তারই নির্দশন। এগুলোর কসম খেয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে , আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত এই বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করার পরও যে আল্লাহ এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি আখেরাত কায়েম করার ক্ষমতা রাখেন এবং মানুষের কাছ থেকে তার কার্যাবলীর হিসেব নেয়া তাঁর এ বিজ্ঞতাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য দাবী , একথার সাক্ষ প্রমাণ পেশ করার জন্য কি আর কোন জিনিসের প্রয়োজন থাকে ?

মানব জাতির ইতিহাস থেকে প্রমাণ পেশ করে উদাহরণ স্বরূপ আদ ও সামূদ জাতি এবং ফেরাউনের পরিণাম পেশ করা হয়েছে । বলা হয়েছে , যখন তারা সীমা পেরিয়ে গেছে এবং পৃথিবীতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে তখন আল্লাহর আযাব তাদেরকে গ্রাস করেছে। একথা প্রমাণ করে যে , কোন অন্ধ – বধির শক্তি এই বিশ্ব ব্যবস্থা পরিচালনা করছে না এবং এ দুনিয়াটা কোন অথর্ব রাজার মগের মূল্লুকও নয়। বরং একজন মহাবিজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী শাসক এ বিশ্ব জাহানের ওপর কর্তৃত্ব করছেন। তিনি বুদ্ধি জ্ঞান ও নৈতিক অনুভূতি দান করে যেসব সৃষ্টিকে এ দুনিয়ায় স্বাধীন ক্ষমতা ও ইখতিয়ার দিয়েছেন তাদের কাজের হিসেব নিকেশ করা এবং তাদেরকে শাস্তি ও পুরস্কার দেয়া তাঁর জ্ঞানবত্তা ও ন্যায়পরায়ণতার অনিবার্য দাবী। মানব ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা এর অবিচ্ছিন্ন প্রকাশ দেখি।

তারপর মানব সমাজের সাধারণ নৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আরব জাহেলিয়াতের অবস্থা সে সময় সবার সামনে বাস্তবে সুস্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে তার দু’টি দিকের সমালোচনা করা হয়েছে। এক , সাধারণ মানুষের বস্তুবাদী দৃষ্টিভংগী। যার ফলে তারা নৈতিক ভালো মন্দের দিকটাকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র পার্থিব ধন-দওলাত , মর্যাদা ও প্রতিপত্তি অর্জন বা এর অভাবকে সম্মান লাভ ও সম্মানহানির মানদণ্ড গণ্য করেছিল। তারা ভুলে গিয়েছিণ , সম্পদশালিতা কোন পুরস্কার নয় এবং আর্থিক অভাব অনটন কোন শাস্তি নয় বরং এ দুই অবস্থাতেই মহান আল্লাহ মানুষের পরীক্ষা নিচ্ছেন। সম্পদ লাভ করে মানুষ কি দৃষ্টিভংগী ও কর্মনীতি অবলম্বন করে এবং আর্থিক অনটন ক্লিষ্ট হয়ে সে কোন পথে চলে এটা দেখাই তাঁর উদ্দেশ্য। দুই, লোকদের সাধারণ কর্মনীতি। পিতার মৃত্যুর সাথে সাথেই তাদের সমাজে এতিম ছেলেমেয়েরা চরম দুরবস্থার সম্মুখীন হয়। গরীবদের খবর নেবার এবং তাদের পক্ষে কথা বলার একটি লোকও পাওয়া যায় না। যার ক্ষমতা থাকে সে মৃতের সমস্ত সম্পত্তি গ্রাস করে বসে। দুর্বল হকদারদের খেদিয়ে দেয়া হয়। অর্থ ও সম্পদের লোভ একটি দুর্নিবার ক্ষুধার মতো মানুষকে তাড়া করে ফেরে।

সবশেষে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে , সমালোচনা ও হিসেব নিকেশ অবশ্যি হবে। আর সেদিন এই হিসেব নিকেশ হবে যেদিন আল্লাহর আদালত কায়েম হবে। শাস্তি ও পুরস্কার অস্বীকারকারীদের হাজার বুঝলেও আজ তারা যে কথা মেনে নিতে পারছে না। সেদিন তা তাদের বোধগম্য হবে। কিন্তু তখন বুঝতে পারায় কোন লাভ হবে না। অস্বীকারকারী সেদিন আফসোস করে বলবে : হায় , আজকের দিনের জন্য যদি আমি দুনিয়ায় কিছু সরঞ্জাম তৈরি করতাম। কিন্তু এই লজ্জা ও দুঃখ তাকে আল্লাহর আযাবের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। তবে যেসব লোক আসামানী কিতাব ও আল্লাহর নবীগণের পেশকৃত সত্য পূর্ণ মানসিক নিশ্চিন্ততা সহকারে মেনে নিয়েছিল আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং তারাও আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিদান পেয়ে সন্তুষ্ট হবে। তাদেরকে আহবান জানানো হবে , তোমরা নিজেদের রবের প্রিয় বান্দাদের অন্তরভুক্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো।

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam  Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস,সূরা ফজর বাংলা উচ্চারণ,সূরা ফজর তাফসীর,সূরা ফজর ২৭-৩০,সূরা ফজর আয়াত ৩০,সূরা ফজরের শেষ ৪ আয়াত,সূরা ফজর এর ফজিলত,সূরা ফজর ২৭-৩০ বাংলা উচ্চারণ,সূরা ফজর এর অনুবাদ।

সব সংবাদ