Dawatul Islam | সুরা আল গাশিয়াহ- ‍উচ্চারণ, অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুরা আল গাশিয়াহ- ‍উচ্চারণ, অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
১৯ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:০০ মিনিট

আল গাশিয়াহ অর্থ

বিহ্বলকর ঘটনা

সূরা নং

৮৮

সিজদা

আয়াত

২৬

রুকু

পারা

৩০

মক্কায় অবতীর্ণ

 

নং

আরবি

উচ্চারণ

অনুবাদ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পরম করুণাময় মহানদয়ালু আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি

هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ

হাল্ আতা-কা হাদীছুল্ গশিয়াহ্

কিয়ামতের খবর কি তোমার কাছে এসেছে?

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ

উজু হুঁই ইয়াওমায়িযিন্ খশি‘আতুন

সে দিন অনেক চেহারা হবে নিচু

 عَامِلَةٌ نَاصِبَةٌ

আমিলাতুন্ নাছিবাতুন্

কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত

تَصْلَى نَارًا حَامِيَةً

তাছ্লা নারন্ হামিয়াতান্

তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত অগ্নিশিখায়

تُسْقَى مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ

তুস্ক্ক-মিন্ ‘আইনিন্ আ-নিয়াহ্

তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে

لَيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ

লাইসা লাহুম্ ত্বোয়া‘আ মুন্ ইল্লা মিন্ দ্বোয়ারীই’

তাদের জন্য কাঁটাযুক্ত গুল্ম ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না

لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ

লা ইয়ুস্মিনু অলা ইয়ুগ্নী মিন্ জু‘ইন্

তা মোটা তাজাও করবে না এবং ক্ষধত্বাও নিবারণ করবে না

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ

উজু হুই ইয়াওমায়িযিন্ না-‘ইমাতুল্

সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময়

لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ

লিসা’য়িহা-র-দ্বিয়াতুন্

নিজদের চেষ্টা সাধনায় পরিতৃপ্ত

১০

فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ

ফী জ্বান্নাতিন্ ‘আলিয়াহ

সুউচ্চ জান্নাতে

১১

لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً

লা তাস্মা‘উ ফীহা লাগিয়াহ্

সেখানে তারা শুনবে না কোন আসার বাক্য

১২

فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ

ফীহা ‘আইনুন্ জ্বারিয়াহ্

সেখানে থাকবে চলমান ঝর্ণাধারা

১৩

فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ

ফীহা ছুরুরুম্ র্মাফূ ‘আতুও

সেখানে থাকবে উন্নত আসনসমূহ

১৪

وَأَكْوَابٌ مَوْضُوعَةٌ

অ আক্ওয়া বুম্ মাওদু‘আতুঁও

আর নির্মিত পান পাত্রসমূহ

১৫

وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ

অনামা-রিকু মাছ্ ফূফাতুঁও

আর সারি সারি বালিশ সমূহ

১৬

وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ

অযারাবিয়্যু মাব্ছূছাহ্

আর বিশালবিছানো কার্পেট রাজি

১৭

أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ

আফালা  ইয়ান্জুরূনা ইলাল্ ইবিলি কাইফা খুলিক্বত্

তবে কি তারা উটের প্রতি সাক্ষাৎ করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?

১৮

وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ

অইলাস্ সামায়ি কাইফা রুফি‘আত্

আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে?

১৯

وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ

অইলাল্ জ্বিবালি কাইফা নুছিবাত্

আর পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে?

২০

وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ

অইলাল্ র্আদ্বি কাইফা সুত্বিহাত্

আর যমীনের দিকে, কীভাবে তা বিস্তীর্ণ করা হয়েছে?

২১

فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ

ফাযার্ক্কি  ইন্নামা য় আন্তা মুযার্ক্কি

অতএব হে রাসূল (স:) তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো একজন উপদেশ দাতা মাত্র

২২

لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ

লাস্তা ‘আলাইহিম্ বিমুসাইত্বিরিন্

তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও

২৩

إِلَّا مَنْ تَوَلَّى وَكَفَرَ

ইল্লা মান্ তাওয়াল্লা-অকাফার

তবে যে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কুফরী করে

২৪

فَيُعَذِّبُهُ اللَّهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ

ফাইয়ু‘আয্যিবুহুল্ লা-হুল্ ‘আযাবাল্ আর্ক্বা

ফলে আল্লাহ তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন

২৫

إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ

ইন্না ইলাইনা য় ইইয়া-বাহুম্

নিশ্চয় আমারই নিকট তাদের ফিরে আসাতে হবে

২৬

ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ

ছুম্মা ইন্না ‘আলাইনা হিসাবাহুম্

তারপর নিশ্চয় তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্বে

বিষয়বস্তু

সুরাটির বিষয়বস্তু অনুধাবন করার জন্য এ কথাটি অবশ্য সামনে রাখতে হবে যে , ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কথা লোকদেরকে বুঝাবার মধ্যেই তাঁর দাওয়াত সীমাবব্ধ রাখেন। একটি তাওহীদ ও দ্বিতীয়টি আখেরাত। আর মক্কাবাসীরা এ দু’টি কথা মেনে নিতে অস্বীকার করতে থাকে।

সবার আগে গাফলতির জীবনে আকণ্ঠ ডুবে থাকা লোকদেরকে চমকে দেবার জন্য হঠাৎ তাদের সামনে প্রশ্ন রাখা হয়েছে : তোমরা কি সে সময়ের কোন খবর রাখো যখন সারা দুনিয়ার ওপর ছেয়ে যাবার মতো একটি বিপদ অবতীর্ণ হবে ? এরপর সাথে সাথেই এর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে , সে সময় সমস্ত মানুষ দু’টি ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দু’টি ভিন্ন পরিণামের সম্মুখীন হবে। একদল জাহান্নামে যাবে। তাদের উমুক উমুক ধরনের ভয়াবহ ও কঠিন আযাবের সম্মুখীন হতে হবে। দ্বিতীয় দলটি উন্নত ও উচ্চ মর্যাদার জান্নাতে যাবে। তাদেরকে উমুক উমুক ধরনের নিয়ামত দান করা হবে।

এমনি করে লোকদেরকে চমকে দেবার পর হঠাৎ বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে যায়। প্রশ্ন করা হয় , যারা কুরআনের তাওহীদী শিক্ষা ও আখেরাতের খবর শুনে নাম সিটকায় তারা কি নিজেদের চোখের সামনে প্রতি মুহূর্তে যেসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সেগুলো দেখে না ? আরবের দিগন্ত বিস্তৃত সাহারায় যেসব উটের ওপর তাদের সমগ্র জীবন যাপন প্রণালী র্ভিরশীল তারা কিভাবে ঠিক মরু জীবনের উপযোগী বৈশিষ্ট ও গুণাবলী সম্পন্ন পশু হিসেবে গড়ে উঠেছে , একথা কি তারা একটুও চিন্তা করে না ? পথে সফর করার সময় তারা আকাশ , পাহাড় বা বিশাল বিস্তৃত পৃথিবী দেখে । এই তিনটি জিনিস সম্পর্কেই তারা চিন্তা করে না কেন ? মাথার ওপরে এই আকাশটি কেমন করে ছেয়ে গেলো ? সামনে ওই পাহাড় খাড়া হলো কেমন করে ? পায়ের নীচে এই যমীন কিভাবে বিছানো হলো ? এসব কিছুই কি একজন মহাবিজ্ঞ সর্বশক্তিমান কারিগরের কারিগরী তৎপরতা ছাড়াই হয়ে গেছে ? যদি একথা মেনে নেয়া হয় যে , একজন সৃষ্টিকর্তা বিপুল শক্তি ও জ্ঞানের সাহায্যে এই জিনিসগুলো তৈরি করেছেন এবং দ্বিতীয় আর কেউ তাঁর এই সৃষ্টি কর্মে শরীক নেই তাহলে তাঁকেই একক রব হিসেবে মেনে নিতে তাদের আপত্তি কেন ? আর যদি তারা একথা মেনে নিয়ে থাকে যে সেই আল্লাহর এসব কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা ছিল , তাহলে সেই আল্লাহ কিয়ামত সংঘটিত করার ক্ষমতাও রাখেন , মানুষের পুর্নবার সৃষ্টি করার ক্ষমতাও রাখেন এবং জান্নাত ও জাহান্নাম বানাবার ক্ষমতাও রাখেন — এসব কথা কোন যুক্তি প্রমাণের ভিত্তিতে মানতে ইতস্তত করছে ?

অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি প্রমানের ভিত্তিতে বক্তব্য বুঝানো হয়েছে। এরপর কাফেরদের দিক থেকে ফিরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হেয়েছে । তাঁকে বলা হয়েছে , এরা না মানতে চাইলে না মানুক , তোমাকে তো এদের ওপর বল প্রয়োগকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়নি । তুমি জোর করে এদের থেকে স্বীকৃতি আদায় করতে পারো না। তোমার কাজ উপদেশ দেয়া। কাজেই তুমি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকো। সবশেষে তাদের অবশ্যি আমার কাছেই আসতে হবে । সে সময় আমি তাদের কাছ থেকে পুরো হিসেব নিয়ে নেব। যারা মানেনি তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবো।
সব সংবাদ