Dawatul Islam | সূরা মুতাফফিফীন- উচ্চারণ, অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সোমবার, ১৮, মে, ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সূরা মুতাফফিফীন- উচ্চারণ, অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১১:০৬ মিনিট

সূরার নাম : সূরা মুতাফফিফীন

অর্থ : প্রতারকগণ

সূরা নং : ৮৩

রুকু : ১

আয়াত: ৩৬

সিজদা: ০

শব্দ: ১৬৯

পারা : ৩০

অক্ষর:

মক্কায় অবতীর্ণ

بِسْمِاللّهِالرَّحْمـَنِالرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরআন প্রজক্টে সহযোগিতা করুন

আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের সমর্থন পেতে আমাদের সহযোগিতা করুন।  কুরআন প্রজেক্টটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার মত একজন পাঠকের কাছ থেকে একটি ছোট উপহার আবশ্যক।

রাসুল (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন সর্বোত্তম আমল হল যেগুলো ধারাবাহিকভাবে করা, যদিও তা ছোট হয়।  আপনারঅনুদান দিয়ে “কুরআন প্রজেক্ট”কে সমর্থন করতে এখানে ক্লিক করে  বিস্তারিত পড়ুন।  অত্র প্রজেক্টকে সমর্থন করে তার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছ থেকে অনুগ্রহ হাসিল করুন।

 

নং

আরবি

উচ্চারণ

অনুবাদ

وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ

অইলুল্ লিল্ মুত্বোয়াফ্ফিফীন

ধ্বংস অনিবার্য যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য।

الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ

 আল্লাযীনা ইযাক্ তা-লূ ‘আলান্না-সি ইয়াস্তাওফূন্।

যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে।

وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ

অ ইযা-কা-লূহুম্ আও অযানূ হুম্ ইউখছিরুন।

আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন পরিমাপে কম দেয়।

أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ

আলা-ইয়াজুন্নু উলা-য়িকা আন্নাহুম্ মাব্ঊ’ছূন।

তারা কি আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করেনা যে, নিশ্চয় তারা পুনরুত্থিত হবে,

لِيَوْمٍ عَظِيمٍ

লিইয়াওমিন্ আজীম।

এক মহা দিবসে?

يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ

ইয়াওমা ইয়াকু মুন্না-সু লিরব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

যেদিন মানুষ মহান সৃষ্টিকুলের রবের জন্য দাঁড়াবে।

كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ

কাল্লা ইন্না কিতাবাল্ ফুজ্জারি লাফী সিজ্জ্বীন্।

কখনো নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের ‘আমলনামা সিজ্জীনে।

وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ

অমা য় আদ্র-কা মা-সিজ্জ্বীন্।

কিসে তোমাকে জানাবে ‘সিজ্জীন’ কী?

كِتَابٌ مَرْقُومٌ

কিতা-বুম্ মারক্বুম।

খিত কিতাব।

১০

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ

অই লুঁই ইয়াওমায়িযিল্ লিলমুত্বোয়াফ্ফিফীন।

সেদিন ধ্বংস অস্বীকারকারীদের জন্য ।

১১

الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ

আল্লাযীনা ইয়ুকায্যিবূনা বিইয়াওমিদ্দীন্।

যারা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে।

১২

وَمَا يُكَذِّبُ بِهِ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ

অমা-ইয়ুকায্যিবু বিহী ইল্লা কুল্লু মু’তাদিন্ আছীমিন্।

আর সীমালঙ্ঘনকারী ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করে না।

১৩

إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا قَالَ أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

ইযা তুত্লা ‘আলাইহি আইয়াতুনা ক্বালা আসাত্বীরুল্ আওয়্যালীন্।

যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, ‘পূর্ববর্তীদের রূপকথা।’

১৪

 كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

কাল্লা বাল্ রনা ‘আলা কুলূবিহিম্ মাকানূ ইয়াক্সিবূন্।

কখনো নয়, তারা যা অর্জন করবে তা-ই তাদের অন্তরকে ঢেকে দেবে।

১৫

كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ

কাল্লা ইন্নাহুম্ ‘র্আরব্বিহিম্ ইয়াওমায়িযিল্ লামাহজুরবূন্।

কখনোই না, সেদিন তারা তাদের পালনকর্তার কাছ থেকে গোপন থাকবে না।

১৬

ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُو الْجَحِيمِ

ছুম্মা ইন্নাহুম্ লাছোয়া-লুল্ জ্বাহীম্।

তারপর নিশ্চয় তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।

১৭

ثُمَّ يُقَالُ هَذَا الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ

ছুম্মা ইয়ুক্বলু হাযাল্ লাযী কুন্তুম্ বিহী তুকায্যিবূন্।

অতঃপর বলা হবে, এটিই যা তোমরা অস্বীকার করতে।

১৮

كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ

কাল্লা ইন্না-কিতাবাল্ আব্রারি লাফী ইল্লিয়্যীন্।

কখনোই না, নিশ্চয়ই নেককারদের আমলনামা ইল্লিনে থাকবে।

১৯

وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ

অমা আদ্রা-কামা ঈ’ল্লিইয়ূন্।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আপনি কি জানেন ‘ইল্লিয়্যীন’ কী?

২০

كِتَابٌ مَرْقُومٌ

কিতাবুম্ মারক্বুম।

লিখিত কিতাব।

২১

يَشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُونَ

ইয়াশ্হাদুহুল্ মুক্বাররাবুন।

নৈকট্যপ্রাপ্তরাই তা অবলোকন করে।

২২

إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ

ইন্নাল্ আব্র-র লাফী না‘ঈম।

নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ -স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে।

২৩

عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ

‘আলাল্ আর-য়িকি ইয়ান্জুরূন।

সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

২৪

تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ

তা’রিফূ ফী উজু হিহিম্ নাদরতান্ না‘ঈম্।

তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ -স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে।

২৫

يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيقٍ مَخْتُومٍ

ইয়ুস্ক্বওনা মির রহীক্বিম্ মাখতুম।

তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে।

২৬

خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ

খিতা-মুহূ মিছকুন অফী যা-লিকা ফাল্ইয়াতানা-ফাসিল্ মুতানা-ফিসূন্।

তার মোহর হবে মিসক। আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা।

২৭

وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ

অমিযা-জুহূ মিন্ তাসনীমিন্।

আর তার মিলিত হবে তাসনিম থেকে।

২৮

عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ

‘আইনাই ইয়াশ্রবু বিহাল্ মুক্বাররাবুন।

তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।

২৯

إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ

ইন্নাল্লাযীনা আজরমূ কা-নূ মিনাল্লাযীনা আ-মানূ ইয়াদ্ব্হাকূন্।

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে নিয়ে হাসত।

৩০

وَإِذَا مَرُّوا بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ

অইযা-র্মারূ বিহিম্ ইয়াতাগ-মাযূন্।

আর যখন তারা মুমিনদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন তারা চোখ বন্ধ করে তাদের ঠাট্টা করত।

৩১

وَإِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوا فَكِهِينَ

অইযান্ ক্বলাবূ য় ইলা য় আহ্লিহিমুন্ ক্বলাবূ ফাকিহীন্।

আর যখন তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসত তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ফিরে আসত।

৩২

وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُّونَ

অইযা রয়াওহুম্ ক্বলূ ইন্না হায় য়ুলায়ি লাদ্বোয়া-ল্লূনা।

অতঃপর যখন তারা মুমিনদের দেখল, তারা বলল, নিশ্চয় তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

৩৩

وَمَا أُرْسِلُوا عَلَيْهِمْ حَافِظِينَ

অমা র্উসিলূ ‘আলাইহিম্ হাফিজীন্।

আর তাদেরকে মুমিনদের উপর অভিভাবক হিসেবে প্রেরিত করা হয়নি।

৩৪

 فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ

ফাল্ইয়াওমা ল্লাযীনা আমানূ মিনাল্ কুফ্ফারি ইয়াদ্ব্হাকূনা।

তাই আজ মুমিনরা কাফেরদের উপহাস করবে।

৩৫

عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ

‘আলাল্ আরয়িকি ইয়ান্জুরূন্।

তারা উঁচু আসনে বসে দেখবে।

৩৬

هَلْ ثُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

হাল্ সুওয়িবাল্ কুফ্ফারু মাকানূ ইয়াফ্‘আলূন্।

কাফেররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাচ্ছে?

শানে নুযুল :

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন মদীনাবাসীর সাধারণ কাজ-কারবার ‘কাইল’ তথা পরিমাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো। তারা এ ব্যাপারে চুরি করা ও কম দেওয়ায় খুবই অভ্যস্ত ছিল । এর প্রেক্ষিতে ‘সূরা আল-মুত্বাফফিফীন’ নাযিল হয়। এই সূরা নাযিল হওয়ার পর তারা এ বদ-অভ্যাস থেকে এমন বিরত হয় যে, আজ পর্যন্ত তাদের সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত।

আলোচ্য বিষয়:

অত্র সুরাটিতে দুটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা কয়েছে:

(১) ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা।

(২) ভালো ও মন্দ কর্মফলের বর্ণনা।

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam  Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস, সূরা মুতাফফিফিন এর শানে নুযুল, সূরা আল মুতাফফিফীন তাফসীর, সূরা আল ইনশিকাক বাংলা উচ্চারণ,সূরা আল আলা বাংলা উচ্চারণ,সূরা মুতাফফিফীন এর অনুবাদ, সূরা আত তারিক বাংলা উচ্চারণ,সূরা ইনসান বাংলা অনুবাদ,সূরা আত তাকবীর বাংলা উচ্চারণ।

সব সংবাদ